Template: 1
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক | bijoybangla.news
QR
ই-পেপার / অনলাইন সংস্করণ
Monday , ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৯:৪৫ অপরাহ্ন

রাজশাহী বিভাগের নির্বাচনি হাওয়ায় ঘূর্ণিপাক

আবুল কালাম আজাদ :- ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

রাজশাহী বিভাগের আসনগুলোতে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির জন্য চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। বিভাগে মোট ৩৯টি সংসদীয় আসন আছে। মাঠ পর্যায়ে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৬টি আসনে বিএনপির প্রার্থীরা তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে পারেন। অন্য ১৭টি আসনে তারা এগিয়ে থাকলেও জামায়াতের প্রার্থীরা ছয়টি আসনে এগিয়ে রয়েছেন। নির্বাচনের মাঠে দলীয় কোন্দল, বিদ্রোহী প্রার্থী এবং জামায়াতের শক্ত অবস্থান এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার মূল কারণ।

রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে বিএনপির প্রার্থী দলটির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। দুজনকেই শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। শরীফ উদ্দীন নতুন মুখ হলেও তিনি প্রয়াত মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হকের ছোট ভাই। অন্যদিকে, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ১৯৮৬ সালে এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং একাধিকবার নির্বাচন করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ফলে এখানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলছে।

রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ডিএমডি জিয়াউর রহমান জিয়া। তার বিপরীতে জামায়াতের প্রার্থী ডা. আব্দুল বারী সরদার। জিয়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অভিজ্ঞ হলেও ডা. বারী সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকায় পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছেন। বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজন এবং জামায়াত প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজের কারণে এ আসনেও জমজমাট প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে পরিস্থিতি আরও জটিল। এখানে বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক নজরুল ইসলামের পাশাপাশি বিদ্রোহী হিসেবে মাঠে আছেন ইসফা খায়রুল হক শিমুল ও প্রবাসী নেতা ব্যারিস্টার রেজাউল করিম। অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী মনজুর রহমানও সক্রিয় প্রচারণা চালাচ্ছেন। একাধিক প্রভাবশালী প্রার্থীর কারণে এ আসনে চারমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

অন্য তিনটি আসনের মধ্যে রাজশাহী-২ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন এবং রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনে আবু সাঈদ চাঁদ তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছেন।

এসব আসনেও জামায়াতের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রাজশাহী সদরে জামায়াতের প্রার্থী ডা: জাহাঙ্গীর, রাজশাহী-৩ আসনে অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ এবং রাজশাহী-৬ আসনে অধ্যক্ষ নাজমুল হক। এদের মধ্যে ডা: জাহাঙ্গীর ও নাজমুল হক ভোটে মাঠে নতুন। তবে অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে পবা উপজেলার হড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল, গোমস্তাপুর, ভোলাহাট) আসনে বিএনপির আমিনুল ইসলাম ও জামায়াতের মু. মিজানুর রহমানের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে বিএনপির হারুনুর রশীদ ও জামায়াতের নুরুল ইসলাম বুলবুল লড়াই করবেন। 

নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে বিএনপির ফারজানা শারমীন, শক্ত বিদ্রোহী প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপু এবং জামায়াতের আবুল কালাম আজাদ ভোটের মাঠে রয়েছেন। 

নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসনে বিএনপির রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ও জামায়াতের ইউনুস আলীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

 নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনে বিএনপির আনোয়ারুল ইসলাম, বিদ্রোহী প্রার্থী দাউদার মাহমুদ ও ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপির জার্জিস কাদির হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে রয়েছেন।

নওগাঁ অঞ্চলের নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছি) আসনে বিএনপির ফজলে হুদা বিদ্রোহী প্রার্থী পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী এবং জামায়াতের মাহফুজুর রহমানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। 

নওগাঁ-৫ (সদর) আসনে বিএনপির জাহিদুল ইসলাম ধলু জামায়াতের আবু সাদাত মো. সায়েমের সঙ্গে লড়বেন। 

নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রানীনগর) আসনে বিএনপির শেখ মো. রেজাউল ইসলাম, বিদ্রোহী প্রার্থী আলমগীর কবির এবং জামায়াতের খবিরুল ইসলামের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

বগুড়ার সাতটি আসনের মধ্যে তিনটিতে বিএনপিকে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে। 

বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে বিএনপির কাজী রফিকুল ইসলাম ও জামায়াতের মো. শাহাবুদ্দিন, 

বগুড়া-৩ (আদমদিঘী-দুপচাঁচিয়া) আসনে আব্দুল মহিত তালুকদার ও জামায়াতের নূর মোহাম্মদ, বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে বিএনপির মোশারফ হোসেন ও জামায়াতের মোস্তফা ফয়সাল লড়াই করবেন।

সিরাজগঞ্জের চার ও পাঁচ নম্বর আসন, 

পাবনা-১ এবং অন্যান্য আসনেও বিএনপি এবং জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা দিচ্ছে। এসব আসনে বিএনপি ও জামায়াত দু’পক্ষই প্রার্থীর পরিচিতি, স্থানীয় সেবা কার্যক্রম এবং দলীয় শক্তি ব্যবহার করে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

বিএনপির রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত জানিয়েছেন, কিছু এলাকা জামায়াত অধ্যুষিত এবং কিছুতে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় চ্যালেঞ্জ থাকবে। তবে দল সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে ভোটের মাঠকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং বিদ্রোহীদের বোঝানো হচ্ছে যাতে তারা ভোটের মাঠ থেকে সরে যান।

মাঠ পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, ৩৯টি আসনের মধ্যে ২৩টিতে বিএনপি প্রার্থী এগিয়ে আছেন। বাকি আসনগুলোতে জামায়াতের প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন।

 বগুড়া-৬ (সদর) আসনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভোটের মাঠে এগিয়ে থাকলেও জামায়াত প্রার্থী এক লাখ থেকে এক লাখ ৩০ হাজার ভোট পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাজশাহী জোনের জামায়াতের পরিচালক মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘কিছু কিছু জায়গায় আমাদের সাংগঠনিক অবস্থান দুর্বল হলেও এখন আমরা সক্রিয় প্রচারণা চালাচ্ছি। মহিলা ভোটারদের মাঝে দলের গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। রাজশাহী জোনে দু’একটি আসন বাদে সব জায়গায় ভালো অবস্থান রয়েছে।’

এইভাবে রাজশাহী বিভাগের নির্বাচনী মাঠে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র, ফলাফল যে কোনো দিকে যেতে পারে।

সংগৃহীত ছবি