
নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র কয়েক দিন পেরিয়েছে। এরই মধ্যে দু-একজন মন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নজরে এসেছে মুক্তিযোদ্ধা, চলচ্চিত্রের বরেণ্য অভিনয়শিল্পী ও রাজনীতিবিদ সোহেল রানার। তিনি এ নিয়ে ফেসবুকে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘কিছু মন্ত্রীর বক্তব্যে এখনই “লাগাম টানতে” হবে।’
ফেসবুক পোস্টের শুরুতে সোহেল রানা লিখেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান, গত তিন দিনে দেশের সরকারপ্রধান হিসেবে বাংলাদেশের জনসাধারণ অত্যন্ত আনন্দ এবং আশার সঙ্গে গ্রহণ করেছে আপনাকে।’ এরপরই তিনি সতর্ক করেন, নতুন সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বক্তব্যে সংযম প্রয়োজন। তাঁর ভাষায়, ‘কিছু মন্ত্রীদের বক্তব্যে এখনই লাগাম টানানো দরকার। কোন বিশেষ সংবাদ ব্যতিরেকে তাঁদের সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে টিভি ও প্রিন্ট মিডিয়ায় চেহারা দেখানোর প্রয়োজন নেই। মন্ত্রণালয়ের কোন সংবাদ ওই মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র দিলেই চলবে। বিশেষ প্রয়োজনে তাঁদের আসা দরকার হলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে অনুমতি নিয়ে আসা যেতে পারে।’
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী কী বলতে চেয়েছেন, তা তিনিই ভালো বলতে পারবেন। তবে এ ধরনের কথা বলা তাঁর উচিত হয়নি। একজন প্রতিমন্ত্রীর কথাও আমার নজরে এসেছে, যাকে নিয়ে কথা বলাটা খুব মুশকিল। কারণ, তার বাবা আমার ছোট ভাইয়ের মতো (সাদেক হোসেন) খোকা, তারই ছেলে ইশরাক হোসেন এই কথাটা বলেছে, যা মোটেও ঠিক না।
সোহেল রানা বলেন, ‘যেকোনো জিনিসের সময় দেওয়া উচিত। সময়ের আগে সমালোচনা করা অন্যায়। আমি সমালোচনা করিনি, বরং অনুরোধ করেছি কয়েকটা বিষয়ে নজর দিতে। শরীর কাঁপিয়ে জ্বর আসার আগে দ্রুত চিকিৎসা করা দরকার—এই কথাটাই বলতে চেয়েছি।’ সোহেল রানা মনে করেন, ইতিহাসে ‘অতিকথন’ বা অপ্রয়োজনীয় মন্তব্য অনেক সময় বড় রাজনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘আমাদের দেশে আগেও দেখেছি, ইতিহাসেও দেখেছি, অতিকথন বাংলাদেশের সর্বনাশের অন্যতম কারণ। সরকারে যাঁরা থাকেন, তাঁদের বক্তব্যের দায় শেষ পর্যন্ত সরকারপ্রধানের ওপরই বর্তায়।’