কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানীর মোহাম্মদ শফির বিল এলাকায় আদালতের জারি করা ১৪৪ ধারা অমান্য করে জোরপূর্বক নুরুল আমিনগং এর জমিতে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় চিহ্নিত একটি মাদক ও মানবপাচার চক্রের সদস্যের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে উখিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও পুলিশের পক্ষ হতে কার্যকর তেমন পদক্ষেপ না থাকায় অভিযুক্ত মোহাম্মদ হোসেন গং নির্মাণকাজ অব্যাহত রেখেছে। যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হতে পারে, খবর পেয়ে প্রশাসন আসলে সাময়িক কাজ বন্ধ রাখলেও পুলিশ চলে গেলে পুনরায় নির্মাণ চলে। কোন ভাবেই কাজ বন্ধ করে না। তারা পলাতক স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতো, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগে এখন জামাতের ডোনার বলে নিজেদের জাহির করে। উক্ত ইয়াবারডন হোসেন গং টাকার জোরে গরিব অসহায় ওয়ারিশগনের সম্পত্তি ভোগ দখলে রেখেছে। অথচ ১৭ বছর মামলা চলমান অবস্থায় উক্ত মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো প্রকার কাজ করার সুযোগ না থাকলেও টাকার জোরে তারা নির্মান কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে টাকার কাছে সবাই বন্দি।
উল্লেখ্য যে, আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে প্রথমে কিছুদিন কাজ বন্ধ রাখলেও নির্বাচনকালীন সময়ে অফিস আদালত বন্ধ থাকার সুবাদে অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়োগ করে তারা পুনরায় নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি শেষ হওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা বর্তমান সরকারে বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এলাকায় বিরূপ প্রচারণা চালনোরও অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে। এতে তারা প্রচুর কালোটাকা বিনিয়োগ করেছেন বলেও অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
উক্ত মো. শফির বিল এলাকার মো. হোসেন, শামশুল আলম, মোহাম্মদ আলীসহ তাদের কয়েক ভাই মিলে একটি সংঘবদ্ধ চক্র গঠন করেছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। তাদের বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসা, মানবপাচার ও ভূমিদস্যুতাসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, বৈধ মালিকানাধীন জমি দখল করে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করাই হচ্ছে তাদের উদ্দেশ্য। এরই ধারাবাহিকতায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জারি করা ১৪৪ ধারা অমান্য করে ভুক্তভোগীদের খতিয়ানভুক্ত জমিতে স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত রেখেছে।
সরেজমিনে গিয়ে স্থাপনা নির্মাণের পাশাপাশি তারা নিজেদের নামে দেয়ালে সাইনবোর্ড আকারে জমির দাগ খতিয়ান আঁকিয়ে দিয়েছে। অথচ জমিটি তাদের নয়।
তবে অভিযুক্তদের দাবি, ১৪৪ ধারার বিষয়ে তারা অবগত নন। বিষয়টি যাচাই করে সত্যতা পাওয়া গেলে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতিও দিলেও তারা তা অমান্য করে নির্মাণ কাজ যাচ্ছেন। এছাড়া ইনানী পুলিশ ফাঁড়ি থেকেও আদালত থেকে বিরোধীয় বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনোপ্রকার নির্মান কাজ না করতে উভয়পক্ষকে নোটিশ দেয়া হয়েছে। অথচ আইনকে তারা মোটেও তোয়াক্কা না করে পুলিশের নোটিশকেও পাত্তা দিচ্ছেনা।
অভিযোগ রয়েছে, মোহাম্মদ হোসেন ২০১৮ সালে ১ লাখ ২১ হাজার ইয়াবা ও প্রায় ১০ লাখ টাকাসহ তার ভাই জসিম উদ্দিন ও আরও দুই সহযোগীসহ ৪ জন রাজধানী ঢাকায় র্যাবের হাতে আটক হন। দীর্ঘ পাঁচ বছরের বেশি সময় তিনি কেরানীগঞ্জ কারাগারে বন্দী ছিলেন। গত বছর জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় ইয়াবা ব্যবসাসহ নানা অনিয়মের সাথে জড়িত হয়েছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
এছাড়া তার এক ভাই মোহাম্মদ আলীকেও নিজ বাড়ি থেকে ইয়াবাসহ আটক করেছিল বিজিবি। পরে তাকে উক্ত ইয়াবাসহ উখিয়া থানায় সোপর্দ করা হয়। পরে উখিয়া থানা পুলিশ মাদক মামলায় মোহাম্মদ আলীকেও কারাগারে পাঠায়।
স্থানীয় সচেতন মহল অভিযুক্ত ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া বিরোধিয় জমিতে নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।