
বাণিজ্যিক এলাকা কক্সবাজার কলাতলীতে নতুন স্থাপন করা একটি এলপিজি গ্যাস পাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ১০ জন দগ্ধ হয়েছেন। এর মধ্যে ৬ জনকে রাতেই চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। দগ্ধদের মধ্যে দুইজনকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি ও বাকি দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছাড় দেয়া হয়েছে। আগুনে আশপাশের অন্তত বেশ কিছু স্থাপনা এবং গাড়ি পুড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বুধবার মাগরিবের পরপরই প্রথমে পাম্পে লিকেজ শুরু হয় জানিয়েছেন কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন।
তিনি বলেন, প্রথম দফায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ফের রাত ৮টার দিকে দ্বিতীয় গ্যাস পাম্পে বিস্ফোরণ হয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়। তাৎক্ষণিক ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিস, সেনা ও বিমান বাহিনীর ৯টি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের আরও একটি ইউনিটকে রিজার্ভ রাখা হয়। রাত ১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধরা হলেন চকরিয়ার সিকদার পাড়ার মিজানুর রহমানের ছেলে সাকিব (২৪), রামুর জোয়ারিয়ানালার আবুল হোসেনের ছেলে মো: সিরাজ (২৪), কলাতলীর মৃত জাকারিয়ার ছেলে আব্দুর রহিম (৪৫), আদশগ্রামের আবদু রশিদের ছেলে মোতাহের (৪৫), কক্সবাজার পৌরসভার বাহারছড়ার কালামিয়ার ছেলে কামরুল হাসান,(৩০), আবু তাহের (৪৫), মেহেদী (২৬), খোরশেদ আলম (৫৩) ও টিটন সেন (৪০)।
জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আবু সাইদ বলেন, ‘বার্ন ইউনিট না থাকায় দগ্ধদের মধ্যে ৬ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে আবদুর রহিম ও আবু তাহেরের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তারা ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ আক্রান্ত হয়েছেন। বাকীদের মধ্যে দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি ও দুইজনকে চিকিৎসা শেষে ছাড় দেয়া হয়েছে।
এদিকে রাত সাড়ে ১২টার দিকে জেলা সদর হাসপাতালে সরেজমিনে খোঁজ নিতে আসেন জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান।
এসময় তিনি বলেন, গ্যাস পাম্পে বিস্ফোরণের ঘটনায় হাসপাতলে ১০ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এদের মধ্যে দুইজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। বাকি ছয়কে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেলে প্রেরণ করা হয়েছে। একজন সামান্য আহত এখনও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। দ্রুত সুচিকিৎসার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম হাসপাতালে ইতিমধ্যেই খবর দেয়া হয়েছে যাতে রোগীদের দ্রুত এবং সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ফলে পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে মহাসড়কে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, পাম্পে থাকা গ্যাস শহরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে, যা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। ঘটনার পরপরই পুরো কক্সবাজার শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তা নিশ্চিত ও উৎসুক জনতার ভিড় এড়াতে সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, নৌ স্কাউট, রেড ক্রিসেন্ট সদস্যরা ঘটনাস্থলে কাজ করে।
এদিকে, পাম্প থেকে চারদিকে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ায় মারাত্মক ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার জন্য গ্যাস পাম্প মালিককে দায়ী করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়রা বলেন, জনবহুল বসতি এলাকায় কোনো ধরনের গ্যাস পাম্প স্থাপন করা উচিত হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে এর অনুমতি দেয়াও সঠিক নয় এবং এটি একটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।’
আগুনের সূত্রপাতের ব্যাপারে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, গ্যাস লিকেজ ছিল এবং আনলোডের সময় আগুন ধরে যায়। ফায়ার সার্ভিসের ৫টিসহ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর মোট ৯টি ইউনিটের সদস্যরা এবং তাদের যানবাহনগুলো আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে। আগুনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জন আহত হয়েছে। তার মধ্যে ৬ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গ্যাস পাম্প ষ্টেশনটি স্থাপনের ক্ষেত্রে ফায়ার সার্ভিসের কোন অনুমতি নেয়নি মালিক কর্তৃপক্ষ। এব্যাপারে জেলা প্রশাসক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।