চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের কামাটিকর গ্রামসহ আশেপাশের খাস জমিতে বসবাসকারী ৩২টি পরিবারের মাঝে বৃহস্পতিবার কাপড়, লুঙ্গি ও খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে নারীদের সংগঠন ‘জাগো নারী বহ্নিশিখা’ পক্ষ থেকে শাড়ি ও ঢাকায় কর্মরত স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক চাঁপাইনবাবগঞ্জের মেয়ে আঞ্জুমান আরার আর্থিক সহায়তায় লুঙ্গি ও ঈদের খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়। এছাড়াও পৌর এলাকার বিভিন্ন মহল্লার আরও ৮ টি দুঃস্থ পরিবারের মধ্যে লুঙ্গি ও খাদ্যসমগ্রী বিতরণ করা হয়। খাদ্য সামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল, ডাল, চিনি, সেমাই, বুন্দিয়া, আলু, সয়াবিন তেল, পাপড়। বিতরণ কাজে সহায়তা করে বন্ধুসভার সদস্যরা।
এ উপলক্ষে সকাল সাড়ে ১০টায় গ্রামের বটতলায় এসে জড়ো হয় পরিবারগুলোর সদস্যরা। এদিকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূর থেকে উপহার সামগ্রী নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন সংগঠনের সদস্যরা। উপস্থিত মানুষজনের সঙ্গে কথা বলেন সংগঠনের সভাপতি ফারুকা বেগম, সাধারণ সম্পাদক মনোয়ারা খাতুন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক আনোয়ার হোসেন, বাবুডাইং আলোর পাঠশালার প্রধান শিক্ষক আলী উজ্জামান নূর।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা বিলকিস চৌধুরী, সহসম্পাদক ছবি রানী সাহা, সদস্য লিপি রাই, সানজিদা হক, ডলিয়ারা বেগম, সুলতানা জাহান, উমা মন্ডল, চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রথম আলো বন্ধুসভার উপদেষ্টা জহিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রামিজ আহমেদ।
প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে ষাটোর্ধ্ব নারী মোমেনা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, হামরা খাস মাটিতে বাস করি। হামারঘে এদিকে কেউ সাহায্য দিতে আসে না। তোমারঘে কাছ থাইক্যা শাড়ি পাইনু। পুরুষটার লাইগ্যা লুঙ্গি পাইনু। ঈদের দিন খাওয়ার লাইগ্যা ম্যালারুকুম খাবারও পাইনু। খুব আনন্দ হোইছে। তোমরঘে ভালো হোউক।
সারমিন খাতুন বলেন, হামার সংসারে চার বেটি (মেয়ে)। জামাইটা সবসময় খাটতে পারে না। এক বেটি কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন। তার চিকিৎসা করাতে গিয়্যা ম্যালা টাকা খরচ হয়। সবসময় চিকিৎসা করাতে পারি না। ঈদে সব বেটির লাইগ্যা জামা দিতে পারবো কিনা ঠিক নাই। তোমে তোমারঘে কাছ থাইক্যা কাপড়, লুঙ্গি ও খাবার পাইনু। এখন বেটিগালাকে পোশাক কিন্যা দেয়া সহজ হোইবে। তোমরাকে ধন্যবাদ।
ফারুকা বেগম বলেন, জাগো নারী বহ্নিশিখা ভালো কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকে। প্রতিবছরই ঈদ, পূজাতে অসহায় নারীদের মাঝে নতুন কাপড় ও খাবার বিতরণ করে থাকে। এবার এ গ্রামের খাস জমিতে বাস করা মানুষদের সাহায্য করতে পেরে ভালো লাগছে। আমাদের এমন ভালো উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।