Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news
১৩ মার্চ ২০২৬
০৫:৩৬ অপরাহ্ন

হঠাৎ বৃষ্টিতে আলু খেতে পানি, চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা

অনলাইন ডেস্ক Water for potatoes in sudden rain

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে হঠাৎ প্রবল বৃষ্টিতে পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে বিস্তীর্ণ আলুর খেত। উঠতি আলু তোলার মৌসুমেই আকস্মিক এ বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষায়, এই দুর্যোগ যেন তাদের জন্য মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে হঠাৎ ভারী বৃষ্টিতে উপজেলার রাজাহার, শাখাহার, শাপমারা ও কামদিয়াসহ আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের আলুর জমিতে পানি জমে যায়। রংপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ওই সময়ে এলাকায় প্রায় ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

স্থানীয় কৃষি অফিস ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পশ্চিমাংশে জয়পুরহাট সীমান্তঘেঁষা এলাকায় কয়েকদিন ধরেই কৃষকরা আলু তোলার কাজ করছিলেন। শুক্রবার সকালেও অনেকে জমিতে আলু তুলছিলেন। কিন্তু হঠাৎ প্রবল বৃষ্টিতে অনেক জমি পানিতে তলিয়ে যায়। বেশিরভাগ জমিতে পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত নালা বা ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে।

আলু চাষিরা জানান, জমিতে পানি জমে থাকলে মাটির নিচে থাকা আলু দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এর পাশাপাশি কাদাযুক্ত জমি থেকে আলু তুলতে সময় বেশি লাগে এবং শ্রমিকের সংখ্যাও বাড়াতে হয়। ফলে উৎপাদন খরচও বেড়ে যাচ্ছে।

কৃষকরা বলেন, একদিকে আলুর বাজারদর কম, অন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ঝুঁকি—সব মিলিয়ে এবার চরম সংকটে পড়েছেন তারা।

স্থানীয় কৃষক রায়হানুল ইসলাম বলেন, আমরা কয়েকদিন ধরেই আলু তোলার কাজ করছিলাম। কিন্তু সকালে হঠাৎ বৃষ্টিতে এখানে অন্তত পাঁচ থেকে সাত বিঘা জমিতে পানি জমে গেছে। আশপাশের অনেক জমিতেও একই অবস্থা।

আরেক কৃষক ফুল মিয়া বলেন, অনেক জমিতে এখনো আলু তোলা বাকি রয়েছে। বৃষ্টির কারণে জমি কাদায় পরিণত হয়েছে। এতে সময়ও বাড়ছে, খরচও বাড়ছে। শ্রমিকের মজুরি ও পরিবহন খরচ বাড়বে। আবার জমি ভেজা থাকায় আলু বেশিদিন সংরক্ষণ করা যাবে না। সংরক্ষণ করলে পচে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। তাই বাধ্য হয়ে দ্রুত বাজারে বিক্রি করতে হবে। সবদিক থেকেই এবার আমরা বিপদে।

তবে ঠিক কি পরিমাণ জমির আলুর খেত পানিতে তলিয়ে গেছে, সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেনি কৃষি বিভাগ। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত জমির তালিকা তৈরির কাজ চলছে।

এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, সকালের বৃষ্টিতে উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি ইউনিয়নের আলুর জমিতে পানি জমেছে। কৃষকদের দ্রুত জমির পানি নিষ্কাশন এবং আলু তুলে বাজারে বিক্রি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ ভেজা আলু সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, যদি কোনো ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আউশ ধান আবাদ করতে চান, তাহলে তাদের ক্ষতি পোষাতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রণোদনা দেওয়া হবে।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শুক্রবার সকালে ওই এলাকায় প্রায় ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী তিন থেকে চার দিন রোদ, মেঘ ও বৃষ্টির মিশ্র আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, কৃষি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রমে আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল যে ১০ মার্চের পর থেকে এই অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকরা যদি সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে পারতেন, তাহলে কিছুটা হলেও ক্ষতি কমানো সম্ভব হতো।

© বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news