Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news
১৬ মার্চ ২০২৬
০১:৩৫ অপরাহ্ন

কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ১০ বছরের শিশুর গায়ে আগুন দিল কিশোর

অনলাইন ডেস্ক Teenager sets 10-year-old child on fire

বরিশালের বাবুগঞ্জে কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ১০ বছরের এক শিশুর শরীরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর শিশুটির মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় কিশোর সিফাত শিকদার (১৫) একই এলাকার জালাল শিকদারের ছেলে।

মৃত্যুর আগে ঢাকায় নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সে শিশুটি বলেছিল, ‘আমাকে খারাপ জিনিস কইছে, আমি রাজি হইনি তাই সিফাত আমার গায়ে আগুন দিছে।’ জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দেওয়া এই বক্তব্যের একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

মৃত শিশু রাইসা আক্তার (১০) বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের দক্ষিণ রাকুদিয়া এলাকার দিনমজুর নজরুল হাওলাদারের মেয়ে।

রোববার (১৫ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের দক্ষিণ রাকুদিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। একইদিন রাত ১০টার দিকে ঢাকার ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু রাইসার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন তার পরিবার।  

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সিফাত শিকদার দীর্ঘদিন ধরে রাইসাকে রাস্তাঘাটে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

রোববার দুপুরে রাইসাকে একা পেয়ে সিফাত তার পথরোধ করে। এ সময় কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সে রাইসার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনার সময় পাশের বাড়ির বাসিন্দা তসলিম বিষয়টি দেখতে পেয়ে চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে ডাকেন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় রাইসাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারিতে পাঠানোর পরামর্শ দেন। পরে বিকেলে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। তবে সেখানে ভর্তি হওয়ার কিছু সময় পরই রোববার রাত ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাইসা আক্তারের মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর রাতে শিশুটির দেওয়া বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে রাইসা অভিযুক্ত হিসেবে সিফাতের নাম উল্লেখ করেছে।

বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. এহতেশামুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পরপরই আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। অগ্নিদগ্ধ হয়ে শিশু রাইসার মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত চলছে। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত অভিযুক্তের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

© বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news