রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বাবুডাইং আলোর পাঠশালার শিশু শিক্ষার্থী ছাড়াও আশেপাশের ১৭৫ জন শিশু পেল হামের টিকা। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত এ টিকাদান কর্মসূচি চলে। রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সহকারী বিভাগের উদ্যোগে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের জন্য এ টিকাদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
টিকা দেন গোদাগাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সহকারী পরিদর্শক আব্দুল হায়েক। তাঁকে সহযোগিতায় ছিলেন উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের সিধনা কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) মো: বুলবুল। সার্বিক সহযোগিতা করেন বাবুডাইং আলোর পাঠশালার প্রধান শিক্ষক আলী উজ্জামান নূর, সহকারী প্রধান শিক্ষক শংকর চন্দ্র দাস, লুইশ মুর্মু, সিনিয়র শিক্ষক সাঈদ মাহমুদ, সোনিয়া খাতুন, বিমল হাঁসদাক, নয়ন আহমেদ, নীলমুনি কিসকুসহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।
আব্দুল হায়েক বলেন, দেশব্যাপী হাম রোগের প্রাদূর্ভাব ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। প্রায়ই দিনই এ রোগে আক্রান্ত শিশু মারা যাচ্ছে বা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে রোগী। সরকারি উদ্যোগে গত ৫ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় টিকাদান কর্মসূচি। এরমধ্যে রয়েছে রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলাও। এ স্কুলে এসব এলাকার শিশুরা পড়াশোনা করে। উপজেলা সদর থেকে অনেক দূরবর্তী হওয়ার কারণে এখানে এসে সরকার টিকা দিচ্ছে। এতে মানুষজন উপকার পাচ্ছে। মায়েরা স্বাচ্ছন্দেই শিশুদের টিকা দিতে নিয়ে এসেছেন। যেকোন সরকারি টিকা নির্ভয়ে নিতে এ বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ সকলের মাঝে সচেতনতামূলক কাজ করে থাকেন। এটি খুবই আশাব্যঞ্জক। শিশুদের উপস্থিতিসহ সার্বিক সহযোগিতার জন্য বাবুডাইং আলোর পাঠশালাকে ধন্যবাদ।
তিনি আরও বলেন, টিকা দেয়ার পর যদি কোন শিশুর খারাপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, তবে যেন অবশ্যই দ্রুত নিকবর্তী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগাযোগ করেন।
কোল নারী ললিতা টুডু বলেন, হামারা এখানেই টিকা লিতে পারছি। এটা হামারঘে ল্যাইগ্যা খুবই আনন্দের। হামারঘে মতন এমন প্রত্যন্ত এলাকায় সরকার হামারঘে কথা ভাইব্যা টিকা দিতে পাঠাইছে, তাতে হামরা খুব খুশি। হামরা ভয় ছাড়াই টিকা দিনু।