‘পিছিয়ে পড়া হামারঘে ছ্যালাপিল্যার লাইগ্যা এ স্কুল ম্যালা কিছু করে। ম্যালা কষ্ট করে। স্কুল না আসলে হামারঘে বাড়িতে ডাকতে যায়। মোবাইল করে কথা কহে। কিন্তুক হামারঘে অসচেতনার লাইগ্যা ছ্যালাপিলার কম আগাইছে। হামরা স্কুলের বদলে কাজে পাঠাতে চাহি। তাই তোমরাকে (এসএসসি পরীক্ষায় বিদায়ী শিক্ষার্থী) কহি, তোমরা ভালো কইর্যা পড়ালেখা কর। মাস্টাররা তোমারঘে সোথে আছে।’
বাবুডাইং আলোর পাঠশালার এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে এসে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে এ কথা বলেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির (এসএমসি) সদস্য ও কোল ক্ষুদ্র জাতিসত্ত¡ার নারী নেত্রী রুমালী হাঁসদা। রোববার রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের বাবুডাইং আলোর পাঠশালার এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা ও নবীনদের বরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এ উপলক্ষে সকাল সাড়ে ১০টায় বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করা হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নবীন ও বিদায়ী শিক্ষার্থীদের বরণ ও শুভেচ্ছা জানায়। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির (এসএমসি) সভাপতি শফিকুল আলম ভোতার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী উজ্জামান নূর। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক আনোয়ার হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মহাডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন, বাবুডাইং আলোর পাঠশালার এসএমসি কমিটির সাবেক সভাপতি জহিরুল ইসলাম, সদস্য রুমালি হাসদা, কোল ক্ষুদ্র জাতিসত্তার গ্রাম্য মোড়ল লাছাম কোল মুরমু, বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক শিরিনা খাতুন, খন্ডকালীন শিক্ষক নীলমুনি কিসকু, বিদায়ী শিক্ষার্থী সুরমিলা হাঁসদা, রিতামুনি টুডু, দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাকিবুল হাসান, মোমিতা হাঁসদা প্রমূখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিনিয়র শিক্ষক সাঈদ মাহমুদ।
বক্তারা বলেন, আজকের বিদায় চিরদিনের বিদায় নয়। বিদায়ী শিক্ষার্থীদের জন্য এ বিদ্যালয়ের দরজা সবসময়ের জন্য খোলা। পরীক্ষায় ওএমআর শীট সাবধানে পূরণ করতে হবে। ভালোভাবে পড়াশোনা করতে হবে। এখন নষ্ট করার মত সময় নেই। মন দিয়ে পড়তে হবে। ভালো ফল করে সকলের মুখ উজ্জ্বল করতে হবে। উচ্চতর শ্রেণিতে পড়াশোনা করার মানসিকতা নিয়েই পড়তে হবে।
আলী উজ্জামান নূর বলেন, শিক্ষার্থীদের নানাদিকে এগিয়ে নিতে বাবুডাইং আলোর পাঠশালা নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও তা চলমান থাকবে। পরীক্ষার পর শিক্ষার্থীরা চাইলে বিদ্যালয়েই বিনা খরচে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিতে পারবে।
সভাপতি শফিকুল আলম বলেন, শিক্ষার্থীরা চাইলেই এ বছর থেকে তাদের নিয়ে স্কুল সময়ের পরেও বিনা খরচে অতিরিক্ত ক্লাস (প্রাইভেট) করানোর ব্যবস্থা করা হবে।
বক্তব্য শেষে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা উপকরণ দেয়া হয়। শেষে শিক্ষার্থীদের কয়েকটি দল নাচ-গান পরিবেশন করে।