রাজশাহীতে বর্ণিল আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। এ উপলক্ষে রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমির উদ্যোগে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ১০টায় একাডেমির হলরুমে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন একাডেমির পরিচালক হরেন্দ্র নাথ সিং। প্রধান অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) ও একাডেমি নির্বাহী পরিষদের সভাপতি ড. আ.ন.ম. বজলুর রশিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কারিতাস বাংলাদেশ, রাজশাহী অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক ড. আরোক টপ্য, রাজশাহী কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সামসন হাঁসদা এবং একাডেমির নির্বাহী পরিষদের সদস্য শেলী প্রিসিল্লা বিশ্বাস।
আলোচনা সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন একাডেমির উপ-পরিচালক বেঞ্জামিন টুডু। তিনি বাংলা নববর্ষের ইতিহাস, প্রবর্তন এবং বাঙালি জাতির জীবনে পহেলা বৈশাখের তাৎপর্য তুলে ধরেন।
সভাপতির বক্তব্যে হরেন্দ্র নাথ সিং বলেন, “বাংলা নববর্ষ বাঙালির প্রাণের স্পন্দন। এই দিনে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ আরও বেশি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সব ধরনের উৎসবে তাদের সক্রিয় উপস্থিতি এই জাতির এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য।”
এর আগে সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত পহেলা বৈশাখের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় অংশ নেন একাডেমির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। শোভাযাত্রাটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শিশু একাডেমিতে গিয়ে শেষ হয়।
পরে শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে আদিবাসী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ডম বাদ্যযন্ত্রের তালে নৃত্য পরিবেশন করা হয়। পাশাপাশি একাডেমির শিক্ষার্থীরা দলীয় নৃত্যের মাধ্যমে নববর্ষের আনন্দকে আরও বর্ণিল করে তোলে।
নববর্ষের এ আয়োজন কেবল উৎসবেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং বাঙালি ও আদিবাসী সংস্কৃতির মিলনমেলায় পরিণত হয়ে সম্প্রীতি ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে।