
আসন্ন দাখিল পরীক্ষা সুশৃঙ্খলভাবে নিতে প্রশ্নপত্র সর্টিং ও সেট ব্যবস্থাপনায় কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। পরীক্ষার অন্তত ৭ দিন আগে কেন্দ্রসচিবদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা তার প্রতিনিধি এবং ট্রেজারি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে প্রশ্নপত্র সর্টিং নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে বিশেষ সতর্কতা ‘মেঘনা’ ও ‘যমুনা’ সেটের প্রশ্নপত্র কোনোভাবেই একসঙ্গে না রেখে আলাদা ট্রাংকে সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) কেন্দ্রসচিবদের জন্য বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড থেকে প্রকাশিত জরুরি নির্দেশনায় এসব বিষয়ে জানানো হয়।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পরীক্ষার দিন জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট থেকে এসএমএস পাওয়ার পর নির্ধারিত সেটে পরীক্ষা গ্রহণ করতে হবে। যার সামান্যতম ব্যত্যয় ঘটলে কেন্দ্রসচিব সরাসরি দায়ী থাকবেন।
পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র বিতরণের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, কেন্দ্রসচিবরা ওয়েবসাইট থেকে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করে পরীক্ষার সাত দিন আগে মাদ্রাসাপ্রধানদের কাছে বিতরণ করবেন এবং মাদ্রাসাপ্রধানরা পরবর্তী এক দিনের মধ্যে তা পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করবেন। প্রবেশপত্রে কোনো ভুল থাকলে তা দ্রুত বোর্ড থেকে সংশোধন করিয়ে নিতে হবে।
এছাড়া পরীক্ষার দিনগুলোতে কেন্দ্রসচিব ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। এমনকি কেন্দ্রসচিবকেও শুধুমাত্র ‘নন-অ্যান্ড্রয়েড’ ফোন ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো কক্ষপ্রত্যবেক্ষক বা পরীক্ষার্থীর কাছে মোবাইল ফোন পাওয়া যায়, তবে তাকে সরাসরি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে সোপর্দ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষার পদ্ধতি সম্পর্কে নির্দেশনায় জানানো হয়, এমসিকিউ এবং সৃজনশীল উভয় পরীক্ষা বিরতিহীনভাবে চলবে। ৩০ নম্বরের এমসিকিউ-এর জন্য ৩০ মিনিট এবং ৭০ নম্বরের সৃজনশীল পরীক্ষার জন্য ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ থাকবে। প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা রক্ষায় পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে এসএমএস-এর মাধ্যমে নির্ধারিত সেট কোড জেনে পরীক্ষা গ্রহণ করতে হবে।
প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় এবং শ্রুতিলেখকের সুবিধা প্রদানের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
উত্তরপত্র পাঠানোর ক্ষেত্রে বোর্ড কঠোর সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে। বলা হয়েছে, এমসিকিউ ও লিখিত উত্তরপত্রের ওএমআর কোনোভাবেই এক প্যাকেটে পাঠানো যাবে না। এছাড়া ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বর ইনপুট দেওয়ার পর তার হার্ডকপি বোর্ডে জমা দিতে হবে। পরীক্ষা শুরুর পর প্রতিদিন উপস্থিত, অনুপস্থিত ও বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থীর তথ্য অনলাইনে পাঠানোর জন্যও বলা হয়েছে।