
বাংলাদেশ রেলওয়ের লেভেল ক্রসিং গেইটকিপাররা দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য ও অনিশ্চিত চাকরির প্রতিবাদে ফের সরব হয়েছেন।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘মান উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পে’ কর্মরত পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ১৫০৫ জন গেইটকিপার তাদের চাকরি রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তকরণ এবং বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তাদের দাবি বাস্তবায়নের জন্য আল্টিমেটাম দিয়েছেন। অন্যথায় অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান কর্মসূচি এবং পরবর্তীতে কর্মবিরতিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
গেইটকিপারদের অভিযোগ, টানা ৯ বছর ধরে তারা একই বেতন—১৪ হাজার ৪৫০ টাকায় কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের বাজারে এই আয় দিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন, কেউ কেউ চিকিৎসার অভাবে মারা যাচ্ছেন, এমনকি পরিবারের ভরণপোষণ দিতে না পেরে আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটছে বলে দাবি তাদের।আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো—প্রতি বছর জুলাই মাস এলেই তাদের ৮ থেকে ৯ মাস পর্যন্ত বেতন বন্ধ থাকে। এতে করে জীবন-জীবিকা চরম সংকটে পড়ে যায়। অনেক গেইটকিপার বাধ্য হয়ে ঋণগ্রস্ত হচ্ছেন, কেউ কেউ দিনমজুরির কাজ করে পরিবার চালাচ্ছেন।
তারা জানান, দেশের রেলপথে নিরাপদ ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করতে গেইটকিপারদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে লেভেল ক্রসিংয়ে দায়িত্ব পালন করলেও সেই অনুযায়ী তারা কোনো সুযোগ-সুবিধা পান না। এই অবহেলা অব্যাহত থাকলে তা নিরাপদ ট্রেন চলাচলের জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।গেইটকিপাররা আরও জানান, গত ৯ বছরে একাধিকবার আন্দোলন, মানববন্ধন ও আবেদন করা হলেও কেবল আশ্বাসই মিলেছে, বাস্তব কোনো সমাধান হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে পূর্বে কিছু অনুমোদন ও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
এ অবস্থায় তারা রেলপথ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের জন্য আল্টিমেটাম দিয়েছেন। অন্যথায় অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান কর্মসূচি এবং পরবর্তীতে কর্মবিরতিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
গেইটকিপারদের ভাষায়, “আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছি। অথচ আমাদের নিজেদের জীবনই আজ নিরাপত্তাহীন। একটু মানবিক দৃষ্টিতে আমাদের দিকে তাকানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি।”রেলওয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই গেইটকিপাররা। তাদের জীবনমানের উন্নয়ন এবং ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না হলে এর প্রভাব পুরো রেল ব্যবস্থার উপরই পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।