Template: 1
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক | bijoybangla.news
QR
ই-পেপার / অনলাইন সংস্করণ
Wednesday , ২২ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:৪৯ অপরাহ্ন

দীর্ঘ ১০ বছর পর তনু হত্যা মামলায় এক আসামি গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক ২২ এপ্রিল ২০২৬

বহুল আলোচিত কুমিল্লার সোহাগী জাহান তনু হত্যার ঘটনায় দীর্ঘ ১০ বছর পর প্রথমবারের মতো এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম হাফিজুর রহমান। তিনি সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে তোলা হলে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক। 

বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে সেনাবাহিনীর সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিকেলে তাকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মমিনুল হকের আদালতে তোলা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকার পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পিবিআই জানায়, গত ৬ এপ্রিল কুমিল্লার আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকার পরিদর্শক তরিকুল ইসলামকে তলব করা হয়। এ সময় আদালত তনুর হত্যা মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা লিখিতভাবে তা আদালতে পেশ করেন। পাশাপাশি তদন্তের স্বার্থে তনুর জামায় পাওয়া তিনজনের ডিএনএ ম্যাচ করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে ডিএনএ ম্যাচ করার অনুমতি দেন। তিনজনই সেনাবাহিনী থেকে অবসরে গেছেন।

বুধবার গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর কেরানীগঞ্জের একটি বাসা থেকে সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

তদন্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, সকালে গ্রেপ্তারের পর দুপুরের দিকে কুমিল্লার আদালতে তোলা হয় হাফিজুর রহমানকে। আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করাতে গিয়ে নিখোঁজ হন ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু। পরদিন সেনানিবাসের পাওয়ার হাউস সংলগ্ন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করা হয়।

শুরুতে থানা পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য বের করতে পারেনি। সর্বশেষ পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করে সিআইডি।

প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেছেন পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। পরে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছেন পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।

তদন্তে তনুর মরদেহের কাপড়ে পাওয়া যায় তিন ব্যক্তির ডিএনএ। দীর্ঘদিন ধরে সেই ডিএনএ ম্যাচ করা হয়নি। গত ৬ এপ্রিল মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেন আদালত। পাশাপাশি সেই তিন ব্যক্তির ডিএনএ ম্যাচ করার নির্দেশও দেওয়া হয়। ডিএনএ পাওয়া তিনজনই সাবেক সেনা সদস্য। তারা হলেন- সাবেক সার্জেন্ট জাহিদ, সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সাবেক সৈনিক শাহিদুল আলম। তাদের মধ্যে সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

--সংগৃহীত ছবি