Template: 1
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক | bijoybangla.news
QR
ই-পেপার / অনলাইন সংস্করণ
Friday , ২৪ এপ্রিল ২০২৬ | ০৩:১৪ অপরাহ্ন

রাজশাহীতে ভূমিহীনদের উচ্ছেদচেষ্টা ‘অন্যায়’: খাসজমি বন্দোবস্তের আশ্বাস ভূমিমন্ত্রীর

ছোটন সরদার ২৪ এপ্রিল ২০২৬

রাজশাহীতে মাত্র চার ঘণ্টার নোটিশে দীর্ঘদিনের বসতবাড়ি থেকে ভূমিহীন পরিবারগুলোকে উচ্ছেদের চেষ্টাকে ‘অন্যায় ও চক্রান্তমূলক’ বলে মন্তব্য করেছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। একই সঙ্গে ৪০-৪৫ বছর ধরে বসবাসরত দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে খাসজমি বন্দোবস্ত দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে নগরীর পদ্মা আবাসিক এলাকায় নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নওদাপাড়া এলাকার পাবনাপাড়া মহল্লায় অর্পিত সম্পত্তি ঘিরে চলমান দখল ও উচ্ছেদসংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, “উচ্ছেদ করতে হলে অন্তত ছয়-সাত দিন সময় দিতে হবে। তা না করে হঠাৎ করে ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়াটা একজন মানুষ হিসেবে আমি অত্যন্ত অন্যায় মনে করি।” তিনি আরও বলেন, অতীতে দায়িত্বে থাকা কিছু কর্মকর্তার ব্যর্থতার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অসহায় ও নিঃস্ব মানুষের পাশে থাকা তার নৈতিক দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এ সময় সাবেক সরকারের আমলে ভূমিদস্যুদের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় লিটন, শাহু ও সাচ্চুর মতো ভূমিদস্যুরা জনগণের এই সম্পদ দখলের চেষ্টা করেছে।” ৭০ বছর আগের মালিকানা দাবি দেখিয়ে অর্পিত সম্পত্তি দখলের কোনো সুযোগ নেই বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।

ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও হয়রানি প্রতিরোধে আইনি লড়াই জোরদারের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী স্থানীয় আইনজীবীদের নিয়ে একটি প্যানেল গঠনের পরামর্শ দেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহায়তার ঘোষণাও দেন তিনি।

খাসজমি প্রসঙ্গে মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীন খাসজমি প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে বণ্টনে সরকার আন্তরিক। প্রয়োজনে প্রতিটি পরিবারকে এক থেকে দুই কাঠা জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সরাসরি হস্তক্ষেপ না করে স্থানীয়ভাবে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানান মন্ত্রী।

এর আগে একই দিন সকাল ১০টার দিকে ভূমিমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন ও তিন দফা দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। পরে মন্ত্রী নিজে সেখানে গিয়ে তাদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে পানি পান করিয়ে অনশন ভঙ্গ করান।


ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু।