রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং শুরু হয়েছে। পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়াম লোডিংয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জ্বালানি ইতিহাসে সূচিত হলো অনন্য এক অধ্যায়। বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসবে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে পাবনার ঈশ্বরদীতে এ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আয়োজিত জ্বালানি লোডিংয়ের আনুষ্ঠানিকতায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বাংলাদেশের নবযাত্রায় শুভ কামনা জানান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসি। আর রুশ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রোসাটমের মহাপরিচালক এলেক্সি লিখাচ্বভ আগামীতেও বাংলাদেশের পাশে থাকার কথা জানান।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে পরমাণু জ্বালানি হিসেবে দেশে যে ইউরেনিয়াম এসেম্বলি এসেছিল, মঙ্গলবার বিকেলে সেগুলোই ঘটা করে প্রবেশ করানো হলো দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক নম্বর ইউনিটে। এর মধ্য দিয়ে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের এলিট ক্লাবে ৩৩তম দেশ হিসেবে নাম লেখাল বাংলাদেশ।
প্রকল্পের ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস জানান, রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় এবং দেশীয় দক্ষ প্রকৌশলীদের তত্ত্বাবধানে বিকাল থেকে রিঅ্যাক্টর কোরে ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি স্থাপন করা শুরু হয়েছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন জানান, প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং শেষ হতে ৪৫ দিন সময় লাগবে। জুলাইয়ের শেষে অথবা আগস্টের শুরুর দিকেই প্রথম ইউনিট থেকে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। সেই সঙ্গে চলতি বছরের শেষ নাগাদ বা আগামী বছরের শুরুতে প্রথম ইউনিট থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। এতে ১২০০ মেগাওয়াট নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ মিলবে।
পদ্মা নদীর তীরে ঈশ্বরদীতে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পে রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা নেওয়া হয়েছে। এখানে দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর ব্যবহার করা হয়েছে। দুটি ইউনিট পূর্ণ উৎপাদনে গেলে এখান থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে, যা দেশের মোট চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশেরও বেশি পূরণ করবে।