
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (Rajshahi University of Engineering & Technology) এর সাবেক শিক্ষার্থী মুবদী-উল আলম সাজিদ এক অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। মাত্র ২.৭৯ সিজিপিএ, ১৫টি ব্যাকলগ এবং একটি সেমিস্টার ড্রপ, এমন একাডেমিক প্রোফাইল নিয়েও তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পূর্ণ অর্থায়নে (ফুল-ফান্ডেড) পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হয়েছেন।
২০১৪ সালে স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনা শুরু করলেও ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনার সাথে খাপ খাওয়াতে না পারায় শুরু থেকেই একাডেমিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন সাজিদ। ধীরে ধীরে তার ব্যাকলগের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৫টিতে, এবং পরিস্থিতির কারণে তাকে একটি সেমিস্টার ড্রপ নিতে হয়। ফলে চার বছরের কোর্স সম্পন্ন করতে সময় লাগে প্রায় ছয় বছর। ২০২০ সালে স্নাতক সম্পন্ন করলেও তার সিজিপিএ ছিল ২.৭৯।
স্নাতক শেষে উচ্চশিক্ষার ইচ্ছা থাকলেও নিজের একাডেমিক ফলাফল নিয়ে তিনি ছিলেন দ্বিধাগ্রস্ত। GRE পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তিনি মোট ২৯৭ (Verbal 140, Quant 157) স্কোর অর্জন করেন, যা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় তুলনামূলকভাবে মাঝারি পর্যায়ের হিসেবে বিবেচিত। পরবর্তীতে তিনি একটি ওষুধ কোম্পানিতে যোগ দেন এবং প্রায় পাচ বছর পেশাজীবনে যুক্ত থাকেন।
২০২৩ সালে পিতার মৃত্যুর পর নতুন করে জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেন সাজিদ। দেশে থেকেই উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি Jahangirnagar University-এর অ্যাপ্লাইড ফিজিক্স অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিকস বিভাগে মাস্টার্সে ভর্তি হন। চাকরির পাশাপাশি পড়াশোনা ও গবেষণা চালিয়ে গিয়ে তিনি মাস্টার্সে ৩.৮৪ সিজিপিএ অর্জন করেন এবং গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেন, যা তার একাডেমিক প্রোফাইলকে শক্তিশালী করে।
২০২৫ সালে IELTS পরীক্ষায় ৬.৫ স্কোর অর্জনের পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন শুরু করেন। কম সিজিপিএর কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান ও অধ্যাপক তাকে আবেদন করতে নিরুৎসাহিত করলেও তিনি থেমে থাকেননি। মোট ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন তিনি।
দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর অবশেষে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি Southern Illinois University Carbondale-এ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার অফার পান। প্রোগ্রামটি সম্পূর্ণ ফান্ডেড, যেখানে রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যানশিপ (RA), টিচিং অ্যাসিস্ট্যানশিপ (TA) এবং টিউশন ফি মওকুফ সুবিধা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এরপর ৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে U.S. Embassy Dhaka-এ অনুষ্ঠিত ভিসা সাক্ষাৎকারে মাত্র তিন মিনিটের মধ্যেই তিনি ও তার স্ত্রী (F1 ও F2 ভিসা) অনুমোদন পান। পরদিন ভিসা অনুমোদিত হয় এবং ১৩ এপ্রিল ইস্যু সম্পন্ন হয়।
নিজ অভিজ্ঞতা থেকে সাজিদ জানান, কম সিজিপিএ থাকলেও দেশে মাস্টার্স করে প্রোফাইল উন্নত করা সম্ভব। গবেষণার অভিজ্ঞতা অর্জন এবং শক্তিশালী রিকমেন্ডেশন লেটার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি একাধিক অধ্যাপকের সঙ্গে যোগাযোগ এবং আত্মবিশ্বাস ধরে রাখা ভিসা সাক্ষাৎকারে বড় ভূমিকা রাখে।
এই সাফল্যের গল্প প্রমাণ করে যে প্রাথমিক একাডেমিক ব্যর্থতা চূড়ান্ত নয়। সঠিক পরিকল্পনা, অধ্যবসায় এবং দৃঢ় মানসিকতা থাকলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সফলতা অর্জন সম্ভব। সাজিদের ভাষায়, “সাফল্য কোনো গন্তব্য নয়, এটি একটি দীর্ঘ যাত্রা।”