
ওপেনএআই সংক্রান্ত মামলায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে ইলন মাস্ক স্বীকার করেছেন, টেসলা এখনো এজিআই নিয়ে কাজ করছে না। অথচ কিছুদিন আগেই তিনি ভিন্ন দাবি করেছিলেন। এতে আদালতে তার অবস্থান প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালতে বুধবার হাজির হন টেসলা প্রধান ইলন মাস্ক। তিনি অভিযোগ করেন, ওপেনএআইয়ের সহ প্রতিষ্ঠাতারা একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানকে পরে মুনাফাভিত্তিক কাঠামোয় নিয়ে গেছেন।
মাস্কের দাবি, শুরুতে ওপেনএআই মানবকল্যাণে এআই তৈরির লক্ষ্য নিয়ে গড়ে ওঠে। তিনি সেই বিশ্বাস থেকেই এতে যুক্ত হন। তবে সময়ের সঙ্গে তিনি প্রতিষ্ঠাতাদের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ করতে শুরু করেন।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আসে। মাস্ক আদালতে বলেন, টেসলা বর্তমানে এজিআই তৈরি করছে না। এজিআই হলো এমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যা মানুষের মতো সব ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ করতে পারে।
এই বক্তব্য তার সাম্প্রতিক সামাজিক মাধ্যম পোস্টের সঙ্গে মিলছে না। সেখানে তিনি বলেছিলেন, টেসলা এজিআই তৈরি করবে। ফলে তার নিজের বক্তব্যই তাকে চাপে ফেলেছে।
ওপেনএআইয়ের আইনজীবী উইলিয়াম স্যাভিট জেরা চালান। তিনি দেখাতে চান, মাস্ক নিজেই একসময় ওপেনএআইকে মুনাফাভিত্তিক করার পক্ষে ছিলেন।
আদালতে মাস্ক জানান, ২০১৬ সালেই তিনি এই রূপান্তর নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। ২০১৭ সালে তিনি এমন একটি পরিকল্পনাও করেন যেখানে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানা রাখতেন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হওয়ায় তিনি পরে নিয়মিত অনুদান বন্ধ করেন। তবে ২০২০ সাল পর্যন্ত অফিসের খরচ বহন করেন।
মামলায় বিনিয়োগের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। শুরুতে মাইক্রোসফটের বিনিয়োগে মুনাফার সীমা ছিল। পরে সেই সীমা শিথিল করা হয়। মাস্ক বলেন, এই পরিবর্তনই তাকে মামলা করতে প্রভাবিত করেছে।
এছাড়া তার বিনিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তিনি আগে ১০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের কথা বললেও বাস্তবে প্রায় ৩৮ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে মাস্ক বলেন, তার প্রভাব ও যোগাযোগও বড় অবদান।
নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। মাস্কের দাবি, করপোরেট কাঠামোয় গেলে এআই নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তবে তিনি স্বীকার করেন, এই ঝুঁকি সব এআই প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই আছে।
বিচারক ইভন গনজালেস রজার্স জানান, নিরাপত্তা বিষয়টি আরও আলোচনা হবে। তবে নির্দিষ্ট ঘটনার বিতর্কে যেতে তিনি অনাগ্রহী। মাস্ককে আবারও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ডাকা হবে। এছাড়া ওপেনএআইয়ের আরও কয়েকজন কর্মকর্তার সাক্ষ্য নেওয়া হবে।