Template: 3
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
অনলাইন ডেস্ক | ০২ মে ২০২৬
bijoybangla.news
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক

রংপুরে অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থায় ভুগছে নগরবাসী

অনলাইন ডেস্ক City dwellers are suffering.

রংপুরে অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা ‍সৃষ্টি হয়েছে। এতে রাস্তাঘাট, অলিগলি ও বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। একই সঙ্গে শ্যামাসুন্দরী ও কেডি ক্যানেলে পানি বাড়ায় কিছু ব্যস্ততম সড়ক ও নিম্নাঞ্চলেও হাঁটু পানি জমেছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার এমন দুর্বলতায় নগরবাসীর ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

আবহাওয়া অফিস বলছে, আজ শনিবার সকাল নয়টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৮ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আর গত এক সপ্তাহে বৃষ্টিপাত হয়েছে ৩০৮ মিলিমিটার।

কয়েকদিন ধরে রংপুরে থেমে থেমে হওয়া এমন বৃষ্টিতে তিস্তা, ঘাঘট, যমুনেশ্বরী নদীবিধৌত নিম্নাঞ্চলের আবাদি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। আর রংপুর নগরীর অলিগলিসহ বিভিন্ন সড়ক ও পাড়া-মহল্লায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা।

সরেজমিন দেখা গেছে, গ্রামের মতো শহরের নিচু এলাকাগুলো এখন পানিতে থইথই। কোনো কোনো এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমেছে। নগরীর বাবুখা, মাস্টারপাড়া, আবহাওয়া অফিস এলাকা, চারতলা মোড় কলোনী, লালবাগ, পার্কের মোড়, মেডিকেল ক্যাম্পাস, নীলকণ্ঠ সোটাপীর ও শান্তিবাগসহ অন্তত ১০টি এলাকায় এমন দৃশ্য চোখে পড়েছে।

কিছু এলাকায় ড্রেন উপচে ময়লা পানি সড়কে ছড়িয়ে পড়ে। পানি কমে না আসাতে এখনও কিছু কিছু এলাকার রাস্তাঘাট, বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান জলমগ্ন হয়ে আছে।

সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা কাজ করছে। তবে সাময়িক এ প্রচেষ্টার চেয়ে স্থায়ী সমাধানে পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনাসহ শ্যামাসুন্দরী ও কেডি ক্যানেল খনন এবং সংস্কারে গুরুত্বারোপ করছেন নগরবাসী।

ভোগান্তিতে পড়া বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দদের অভিযোগ, নগরীর বুক চিরে বয়ে যাওয়া ১৬ কিলোমিটারের শ্যামাসুন্দরী ক্যানেল ঠিকমতো ড্রেজিং না করাসহ অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে কয়েক ঘণ্টা বৃষ্টিপাত হলেই পানি উপচে লোকালয়ে প্রবেশ করছে।

নগরীর চারতলা মোড় কলোনী এলাকার বাসিন্দা হোসেন মিয়া বলেন, রংপুর ঘুরে দেখে বোঝার উপায় নেই এটি বিভাগীয় শহর। এই মহানগরের রাস্তাঘাটের কিছুটা উন্নয়ন হলেও খাতা-কলমে হিসেব মিলবে না। কোথাও ড্রেনের চেয়ে রাস্তা উঁচু, আবার কোথাও খালের চেয়ে রাস্তা নিচু। পুরো মহানগরটা এখনও অগোছালো রয়েছে। এ কারণে আমাদেরকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

মাস্টারপাড়ার দারুল ইসলাম হাফেজিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা হাবিবুর রহমান বলেন, এই এলাকায় কোনো কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। সামান্য বৃষ্টি হলেই মাদরাসায় পানি ঢুকে যায়। ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের থাকার কক্ষ পানিতে ডুবে যায়। বাধ্য হয়ে তাদের মসজিদের ভেতরে রাখতে হচ্ছে। এটি বহুদিনের সমস্যা, কিন্তু কোনো সমাধান নেই।

নগরীর বাবুঁখা এলাকার আহসান হাবিব জানান, পানি নিষ্কাশনের জন্য এখনও পর্যাপ্ত ড্রেন তৈরি হয়নি। পাড়া-মহল্লার ছোট ছোট খালগুলো ভরাট আর দখলদারিত্বের কবলে পড়ায় বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতা অনিবার্য হয়ে উঠছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই বাড়ির আশপাশসহ অধিকাংশ নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এই সমস্যা দীর্ঘদিনের। আমাদের জনপ্রতিনিধিরা শুধু আশ্বাস দেয়, কিন্তু বাস্তবে আমাদের দুর্ভোগ কমে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবই এ সমস্যার মূল কারণ। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে—এমনটাই বলছেন তারা।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রংপুর জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু বলেন, রংপুর বিভাগ ও রংপুর সিটি করপোরেশন হওয়ার দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও পরিকল্পিত নগরী গড়ার কোনো পরিকল্পনা দেখা যাচ্ছে না। সিটি করপোরেশনের প্রস্তাব দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। মাস্টারপ্ল্যান ছাড়াই হচ্ছে অপরিকল্পিত নগরায়ন।  

তিনি আরও বলেন, একটি আধুনিক নগরের প্রথম শর্ত হচ্ছে পরিবেশবান্ধব পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবায়ন। রংপুর মহানগরকে উন্নত নাগরিক সুবিধা, তথ্য-প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম শুরু করা এখন সময়ের দাবি।  

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, দেশের অন্যতম অপরিকল্পিত নগরগুলোর একটি রংপুর। এই নগরকে পরিকল্পনার আওতায় আনতে হবে। অথচ এটি করা হয়নি। আমরা দেখেছি ২০২০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ৩৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতে পুরো রংপুর ডুবেছিল। ওই বৃষ্টিপাত রংপুরের ১০০ বছরের রেকর্ড ভেঙেছিল। পানিপ্রবাহের প্রধানপথ শ্যামাসুন্দরী ও কেডি ক্যানেলের সঠিক পরিচর্যার অভাব, দখলমুক্তকরণ, খনন ও যথাযথ সংস্কার না হওয়ায় জলাবদ্ধতাসহ নানা ভোগান্তি বারবার সামনে আসছে।

তিনি আরও বলেন, যেভাবে রাস্তা নির্মাণে যানজট কমবে, জলাবদ্ধতা কমবে সেই উপায়ে ড্রেনেজ ব্যবস্থা করার দিকে আমাদের মনোযোগ দিতে হবে। কিন্তু সেই মাস্টারপ্ল্যান নেই। আমরা চাই দ্রুত সময়ের মধ্যে রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম শুরু হোক। রংপুর সিটি করপোরেশনের জন্য একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরিসহ রংপুরকে ঢেলে সাজানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (দায়িত্বরত) রাকিব হাসান বলেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার জন্য একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও দুই থেকে তিনদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়ে রংপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ ও আবহাওয়া কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৬৮ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী ৪ মে পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে।

© বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news