আপনি প্রতিদিন এর ওপর ভর দিয়ে হাঁটেন, কিন্তু পায়ের সামান্যতম পরিবর্তনও হতে পারে আপনার শরীরের প্রাথমিক সতর্ক সংকেত। পায়ে ব্যথা শুরু না হওয়া পর্যন্ত এটি খুব কমই মনোযোগ পায়। প্রতিটি পায়ে ২৬টি হাড়, ১০০টিরও বেশি পেশী, টেন্ডন এবং লিগামেন্ট রয়েছে, যা ভারসাম্য এবং চলাচলকে স্থির রাখতে একসঙ্গে কাজ করে।
সত্যিটা খুবই সহজ, পায়ে যেসব লক্ষণ দেখা দেয়, তা বেশিরভাগ সময় শরীরের গভীরে যা ঘটছে তার প্রতিফলন ঘটায়। এখানকার ছোটখাটো পরিবর্তন বড় কোনো সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। শুরুতে এগুলোকে উপেক্ষা করার অর্থ হলো পরবর্তীতে আরও বড় সমস্যার সম্মুখীন হওয়া।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পা একটি জটিল কাঠামো যা পুরো শরীরের ওজন বহন করে এবং চলাচল, ভারসাম্য ও দৈনন্দিন কাজকর্মে সক্ষম করে। তবুও এটি আমাদের শরীরের সবচেয়ে অবহেলিত অংশ।
আপনার স্বাস্থ্য সম্পর্কে আপনার পা নীরবে যা প্রকাশ করে
পা অনেক সময় প্রাথমিক বার্তাবাহকের মতো কাজ করে। এটি রক্ত সঞ্চালন, স্নায়ুর স্বাস্থ্য এবং এমনকি বিপাকীয় অবস্থারও প্রতিফলন ঘটায়। জেনে নিন পায়ের কোন লক্ষণ কোন স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে-
* পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া বা অসাড়তা দুর্বল রক্ত সঞ্চালন বা স্নায়ুর ক্ষতির ইঙ্গিত দিতে পারে।
* গোড়ালি ফাটা এবং শুষ্ক ত্বক ডিহাইড্রেশন বা থাইরয়েডের ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ হতে পারে।
* গোড়ালিতে ফোলাভাব কখনও কখনও হৃৎপিণ্ড, কিডনি বা লিভারের উপর চাপের সংকেত দেয়।
* নখের রঙ বা পুরুত্বের পরিবর্তন ছত্রাক সংক্রমণ বা কোনো অন্তর্নিহিত অসুস্থতার ইঙ্গিত দিতে পারে।
ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এই লক্ষণগুলো আরও গুরুতর হতে পারে। ডায়াবেটিসে স্নায়ুর ক্ষতি, রক্ত সরবরাহ কমে যাওয়া এবং পায়ের বিকৃতির কারণে পা অলক্ষিত আঘাত, সংক্রমণ এবং দীর্ঘস্থায়ী ঘা-এর ঝুঁকিতে থাকে। অবহেলা করলে পায়ে গ্যাংগ্রিনাস (ক্যান্সার) হতে পারে এবং অঙ্গচ্ছেদের প্রয়োজন হতে পারে।
কেন পায়ের সমস্যা বাড়ছে
পায়ের সমস্যা এখন আর শুধু বয়সের কারণে হয় না। জীবনযাপনের ধরন বদলে গেছে এবং এর প্রভাব পড়ছে পায়ের ওপর।
* দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে রক্ত সঞ্চালন কমে যায়।
* অনুপযুক্ত জুতা পরলে অস্থিসন্ধি ও পেশীতে চাপ সৃষ্টি হয়।
* ক্রমবর্ধমান স্থূলতা পায়ের উপর চাপ বাড়ায়।
* কম শারীরিক কার্যকলাপ পায়ের পেশী দুর্বল করে দেয়।