Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news
০৪ মে ২০২৬
০১:৫৪ অপরাহ্ন

ব্রেকআপের পর আইসক্রিম খাওয়া, গান শোনা কি আসলেই মন ভালো করে

অনলাইন ডেস্ক Does eating ice cream and listening to music really make you feel better after a breakup

বিচ্ছেদ বা ব্রেকআপ জীবনের এমন এক অভিজ্ঞতা, যা প্রায় প্রত্যেকেই কোনো না কোনো সময়ের মধ্যে দিয়ে যান। কিন্তু এই কঠিন সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পদ্ধতি সবার জন্য একরকম নয়। কেউ নিজেকে গুটিয়ে নেন, কেউ বন্ধুদের সান্নিধ্যে সান্ত্বনা খোঁজেন। তবে অনেকেই কাঁদেন, পেট ভরে আইসক্রিম খান, কিংবা দুঃখের গান শোনেন। প্রশ্ন হলো, এই কাজগুলো আসলেই কি উপকার করে, নাকি এগুলো শুধু সাময়িক স্বস্তি? আসুন জেনে নেওয়া যাক-

কান্না করলে

অনেকেই মনে করেন কান্না করা মানেই দুর্বলতা। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি ঠিক উল্টো। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রেকআপের পরে ইমোশনাল রিলিজ বা আবেগের মুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কান্না সেই প্রক্রিয়ার একটি স্বাভাবিক অংশ। যখন আপনি কাঁদেন, তখন জমে থাকা কষ্ট, হতাশা ও চাপ কিছুটা হলেও বেরিয়ে যায়। এটি মনের ভার হালকা করে এবং আপনাকে ধীরে ধীরে সুস্থ হওয়ার পথে এগিয়ে দেয়। তাই নিজের অনুভূতিকে দমন না করে, স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ করাই ভালো।

আইসক্রিম খেলে

ব্রেকআপের পরে অনেকেই আইসক্রিমের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এটি কেবল অভ্যাস নয়, এর পেছনে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও রয়েছে। সম্পর্ক ভাঙার পর মস্তিষ্কে ‘হ্যাপি হরমোন’ যেমন ডোপামিন ও অক্সিটোসিনের ক্ষরণ কমে যায়, আর স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রা বেড়ে যায়। আইসক্রিম তার মিষ্টতা এবং ঠান্ডা তাপমাত্রার মাধ্যমে দ্রুত সংবেদনশীল স্বস্তি প্রদান করে, যা সাময়িকভাবে মস্তিষ্কে মৃদু স্থিতিশীলতা আনতে পারে। তাই এই সময় আইসক্রিম খেলে সাময়িক হলেও মন ভালো হতে পারে। এটি মানসিক চাপ কমিয়ে দেয়। তবে অবশ্যই অতিরিক্ত না খেয়ে পরিমিতভাবে উপভোগ করা জরুরি।

গান শুনলে

ব্রেকআপের পরে অনেকেই দুঃখের গান শোনেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এটি মানসিকভাবে উপকারী হতে পারে। দুঃখের গান আপনার মনের ভেতরে জমে থাকা কষ্টকে প্রকাশ করতে সাহায্য করে। যখন মনে হয় কেউ আপনাকে বুঝছে না, তখন এই গানগুলো যেন আপনার অনুভূতির প্রতিফলন হয়ে ওঠে। এগুলো আপনাকে বোঝায়, আপনি একা নন। ধীরগতির সুর ও আবেগঘন কথা মস্তিষ্কে প্রশান্তি এনে দেয়, যা স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে।

ব্রেকআপের পর যা করবেন

বিচ্ছেদের পরে হঠাৎ করে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে,এমন আশা করা ঠিক নয়। এটি একটি প্রক্রিয়া, যার জন্য সময় প্রয়োজন। তাই ধৈর্য ধরুন এবং নিজেকে সময় দিন।

১. নিজের অনুভূতিগুলোকে স্বীকার করুন। কষ্ট, রাগ, হতাশা-সবই স্বাভাবিক। এগুলোকে দমন না করে ধীরে ধীরে মেনে নিন।

২. নিজের পছন্দের কাজে মন দিন। গান শোনা, বই পড়া, লেখা বা নতুন কিছু শেখা আপনাকে মানসিকভাবে ব্যস্ত রাখবে এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হতে সাহায্য করবে।

৩. বন্ধু বা কাছের মানুষের সঙ্গে কথা বলুন। একা একা সবকিছু সামলানোর চেষ্টা না করে, নিজের অনুভূতি শেয়ার করুন। এতে মানসিক চাপ অনেকটাই কমে।

৪. অতীত থেকে শিক্ষা নিন। সম্পর্কের কোথায় ভুল হয়েছিল, ভবিষ্যতে কীভাবে ভালো থাকা যায়, এসব বিষয় নিয়ে ভাবুন। 

নিজেকে ভালোবাসুন 

ব্রেকআপ মানেই জীবন শেষ, এই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি। বরং এটি হতে পারে নিজের দিকে নতুন করে মনোযোগ দেওয়ার একটি সুযোগ। অনেক সময় সম্পর্কে থাকাকালীন আমরা নিজেদের প্রয়োজন, ইচ্ছা বা মূল্যবোধকে উপেক্ষা করি। অন্যকে খুশি রাখতে গিয়ে নিজের সত্ত্বাকে হারিয়ে ফেলি। তাই এই সময়টা নিজের জন্য ব্যবহার করুন। নিজেকে সময় দিন, নিজের পছন্দের কাজ করুন, নিজের ভালো লাগার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিন। মনে রাখবেন, নিজের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

নিজেকে দোষ না দেওয়া

একটি সম্পর্ক শেষ হওয়া মানেই আপনি ব্যর্থ হয়েছেন, এমন ভাবনা একেবারেই ভুল। সম্পর্ক দুইজন মানুষের ওপর নির্ভর করে, তাই এর সফলতা বা ব্যর্থতার দায়ও একতরফা নয়। নিজেকে দোষারোপ করলে আত্মবিশ্বাস কমে যায় এবং হিলিং প্রক্রিয়া ধীর হয়ে পড়ে। বরং নিজের ভালো দিকগুলো চিনুন এবং ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক থাকুন।

ব্রেকআপ জীবনের একটি কঠিন অধ্যায়, কিন্তু এটি শেষ নয়। বরং এটি নতুন করে নিজেকে আবিষ্কার করার সুযোগ। ছোট ছোট জিনিসগুলোই আপনাকে ধীরে ধীরে সুস্থ করে তুলতে পারে।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, সাইকোলজি টুডে


© বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news