বিশ্ব সাংবাদিকতার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সম্মান পুলিৎজার-এর ২০২৬ সালের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। নিউইয়র্কের কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এবারের পুরস্কারে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে প্রভাবশালী অনুসন্ধানী ও বিশ্লেষণধর্মী সাংবাদিকতাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
এ বছর একাধিক বিভাগে দাপট দেখিয়েছে রয়টার্স, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।
জাতীয় রিপোর্টিং বিভাগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতার ব্যবহার ও প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রতিবেদন করে রয়টার্স পুরস্কার জিতেছে। একই সঙ্গে বিট রিপোর্টিং বিভাগেও মেটার ভূমিকা নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য বার্তা সংস্থাটি পুরস্কৃত হয়েছে।
অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে নিউইয়র্ক টাইমস। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার ঘনিষ্ঠরা কীভাবে ক্ষমতাকে ব্যবহার করে লাভবান হচ্ছেন তা উন্মোচন করে তারা এই বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে। মতামত বিভাগে প্রতিষ্ঠানটির এম গেসেনও পুরস্কৃত হয়েছেন।
পাশাপাশি গাজায় যুদ্ধ পরিস্থিতির হৃদয়বিদারক ছবি তুলে ধরে ব্রেকিং নিউজ ফটোগ্রাফি বিভাগে পুরস্কার জিতেছেন একই প্রতিষ্ঠানের ফটোসাংবাদিক সাহের আলগোররা।
জনসেবা বিভাগে বড় স্বীকৃতি পেয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট। ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্কার এবং তার প্রভাব তুলে ধরার জন্য তারা এই পুরস্কার অর্জন করেছে। এছাড়া ফিচার ফটোগ্রাফিতে প্রতিষ্ঠানটির জাহি চিকওয়েন্দিউ সম্মাননা পেয়েছেন একটি আবেগঘন ছবি-গল্পের জন্য।
ব্রেকিং নিউজ রিপোর্টিং বিভাগে মিনেসোটা স্টার ট্রিবিউনের কর্মীরা একটি স্কুলে গুলিবর্ষণের সংবেদনশীল কভারেজের জন্য পুরস্কার জিতেছেন। ব্যাখ্যামূলক প্রতিবেদনে সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকলের তিন সাংবাদিক বীমা কোম্পানির অনিয়ম নিয়ে কাজের জন্য স্বীকৃতি পেয়েছেন।
স্থানীয় সাংবাদিকতায় এ বছর দুটি পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। একটি পেয়েছে কানেকটিকাট মিরর ও প্রোপাবলিকা'র সাংবাদিকরা, যারা গাড়ি টোয়িং আইন নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করেছেন। অন্যটি পেয়েছে শিকাগো ট্রিবিউনের কর্মীরা, যারা অভিবাসন অভিযান নিয়ে শক্তিশালী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন।
আন্তর্জাতিক রিপোর্টিং বিভাগে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সাংবাদিকরা বৈশ্বিক নজরদারি প্রযুক্তি নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য পুরস্কৃত হয়েছেন। ফিচার রাইটিং বিভাগে টেক্সাস মান্থলির অ্যারন পার্সলি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে লেখা বন্যার করুণ কাহিনির জন্য সম্মাননা পেয়েছেন।
এছাড়া সমালোচনা বিভাগে ডালাস মর্নিং নিউজের মার্ক ল্যামস্টার এবং ইলাস্ট্রেটেড রিপোর্টিং অ্যান্ড কমেন্টারি বিভাগে ব্লুমবার্গের সাংবাদিকরা পুরস্কার জিতেছেন। অডিও রিপোর্টিং বিভাগে ‘পাবলো টরে ফাইন্ডস আউট’ পডকাস্ট দলও স্বীকৃতি পেয়েছে।
সাংবাদিকতার বাইরে সাহিত্য, ইতিহাস, নাটক ও সংগীতেও পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। কথাসাহিত্য বিভাগে ড্যানিয়েল ক্রাউস তার ‘অ্যাঞ্জেল ডাউন’ বইয়ের জন্য সম্মাননা পেয়েছেন।
এছাড়া ‘লিবারেশন’ নাটকের জন্য বেস ওহল, ‘উই দ্য পিপল : এ হিস্ট্রি অব দ্য ইউএস কনস্টিটিউশন’ বইয়ের জন্য ইতিহাসে জিল লেপোর, ‘প্রাইড অ্যান্ড প্লেজার : দ্য স্কাইলার সিস্টার্স ইন এন এজ অব রেভোলিউশন’ বইয়ের জন্য জীবনী বিভাগে আমান্ডা ভাইল, ‘থিংস ইন নেচার মেয়ারলি গ্রো’ বইয়ের জন্য আত্মজীবনী বিভাগে ইয়িয়ুন লি, আরস পোয়েটিকাস কাব্যগ্রন্থের জন্য কবিতায় জুলিয়ানা স্পার, সাধারণ নন-ফিকশনে ‘দেয়ার ইজ নো প্লেস ফর আস : ওয়ার্কিং অ্যান্ড হোমলেস ইন আমেরিকা’ বইয়ের জন্য ব্রায়ান গোল্ডস্টোন, গ্যাব্রিয়েলা লেনা ফ্রাঙ্ক তার সিম্ফোনিক কাজ ‘পিকাফ্লোর : এ ফিউচার মিথ’-এর জন্য সংগীতে এবং সাংবাদিক জুলি কে. ব্রাউনকে সাংবাদিকতায় তার দীর্ঘ অবদানের জন্য বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে।
১৯১৭ সাল থেকে দেওয়া পুলিৎজার পুরস্কারকে সাংবাদিকতার ‘নোবেল’ হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। এবারের আয়োজনেও রাজনৈতিক চাপ এবং বৈশ্বিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সাহসী ও প্রভাবশালী সাংবাদিকতার স্বীকৃতি তুলে ধরা হয়েছে।