ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয় নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নানা আলোচনা চলছে। প্রায় দেড় দশক পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদায় এবং প্রথমবারের মতো বিজেপির ক্ষমতায় আসার প্রভাব নিয়ে কৌতূহল রয়েছে। তিস্তার পানি বণ্টন, সীমান্ত ইস্যু ও পুশ-ইন-পুশ ব্যাকের মতো দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে যে-ই ক্ষমতায় আসুক, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে না। তবে নির্বাচনের আগে কিছু বিজেপি নেতার বাংলাদেশ নিয়ে মন্তব্য উদ্বেগ তৈরি করেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারে যেই থাকুক, অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানে বাংলাদেশ একই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করবে। যেই সরকারই আসুক, তাদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে সমাধান করতে হবে।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘নির্বাচনের আগে কিছু নেতার বাংলাদেশ ও তার জনগণ নিয়ে উদ্বেগজনক মন্তব্য দুঃখজনক। পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে আমাদের বড় সীমান্ত আছে এবং সম্পর্ক বহুমাত্রিক। এ ধরনের মন্তব্য সামনে আসতে থাকলে সেটি এদেশেও প্রভাব ফেলতে পারে।’
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের প্রভাব পড়বে না, তবে বিজেপির হিন্দুত্ববাদিতা ও সাম্প্রদায়িকতা উদ্বেগের কারণ। ভারত ধর্মনিরপেক্ষ থাকলে অন্য ধর্মের লোকেরা নিরাপদ থাকতো।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিজেপি সরকার শেখ হাসিনাকে সহায়তা করছে, এখন তারা আরো শেল্টার পেয়ে ষড়যন্ত্র বাড়াতে পারে।’
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। নিকটতম প্রতিবেশী হিসেবে দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যারাই ক্ষমতায় থাকুক, সম্পর্ক আরো এগিয়ে যাবে এবং মানুষ উপকৃত হবে।’
কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের মাধ্যমে একটি সাম্প্রদায়িক শক্তি ক্ষমতায় এলো, যা বাংলাদেশেও রয়েছে। তবে দুই দেশের সাধারণ মানুষ গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতেই সমাজ এগিয়ে নেবে।’