
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলীয় অঞ্চলের বিশাল এক অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে ইরান। দেশটির কর্তৃপক্ষ নতুন একটি মানচিত্র প্রকাশ করে বর্ধিত সমুদ্রসীমা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। মঙ্গলবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, নতুন একটি মানচিত্র প্রকাশ করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সমুদ্রের আওতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে ইরান। মানচিত্রে লাল রেখা দিয়ে চিহ্নিত এই নতুন এলাকা কৌশলগত হরমুজ প্রণালি ছাড়িয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলের দীর্ঘ অংশজুড়ে বিস্তৃত।
ইরানের দাবি করা ওই বর্ধিত অঞ্চলের মধ্যে আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ ফুজাইরা ও খোরফাক্কান বন্দরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ওমান উপসাগরের তীরে অবস্থিত ওই দুটি বন্দর বর্তমান সংঘাতের শুরু থেকেই আমিরাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প পথে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহনে এই বন্দর দুটি ব্যবহার করে আসছে দেশটি।
বিশেষ করে ফুজাইরা বন্দর আমিরাতের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশটির এই বন্দর আবুধাবি ক্রুড অয়েল পাইপলাইনের শেষ প্রান্তে অবস্থিত। পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন খনি থেকে সরাসরি বন্দরে অপরিশোধিত তেল আনা হয়। এর ফলে যুদ্ধের সময়ও বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ সচল রাখতে সক্ষম হয়েছিল আমিরাত।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান যদি এই দুটি বন্দরে প্রবেশের পথ সত্যিই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তাহলে তা কার্যত এই আরব দেশটির ওপর পূর্ণাঙ্গ নৌ-অবরোধের শামিল হবে।
• হরমুজ প্রণালি কি এখন উন্মুক্ত?
সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি গোলাগুলির পর মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী বলেছে, নৌবাহিনীর গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ারের পাহারায় দুটি মার্কিন বাণিজ্যিক জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে। তবে এই পারাপার ঠিক কখন হয়েছে, সে বিষয়ে ওয়াশিংটন সুনির্দিষ্ট কিছু জানায়নি।
অন্যদিকে, ইরান কোনও জাহাজ পারাপারের দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলকারী প্রতিষ্ঠান মায়েরস্ক বলেছে, সোমবার মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজ ‘অ্যালায়েন্স ফেয়ারফ্যাক্স’ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর পাহারায় পারস্য উপসাগর ত্যাগ করেছে।
সূত্র: রয়টার্স।