১৫ লাখ ডোজ হামের ভ্যাকসিন দেশে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার (৬ মে) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউনিসেফ ও গ্যাভির সহায়তায় আসা ভ্যাকসিনের চালান গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জানান, টিটেনাস ভ্যাকসিন এসেছে ৯০ হাজার। ২৪ দিনের মধ্যে এ ভ্যাকসিন দেশে এনে রেকর্ড করেছে সরকার।
অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের কিছু ভুল সিদ্ধান্তের কারণে আমাদের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইপিআই প্রোগ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। আমরা দায়িত্ব নিয়েই তা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছি এবং বর্তমানে দেশে ৮ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী বলেন, ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে ভ্যাকসিন ক্রয়ের আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দায়িত্ব গ্রহণের দুই সপ্তাহের মধ্যেই ইউনিসেফকে সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয়। দ্রুত অর্থ ছাড়ের মাধ্যমে ইউনিসেফের কাছ থেকে ৯৫ মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যার জন্য সরকার ইতোমধ্যে ৮৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদান করেছে।
সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ০৬ মে ইউনিসেফ অতিরিক্ত ১৫ লাখ ডোজ এমআর এবং টিডি ভ্যাকসিন সরবরাহ করেছে। এর আগে ৩ মে প্রথম চালানে ১৫ লাখের বেশি আইপিভি ভ্যাকসিন দেশে এসেছে। আগামী ১০ মের মধ্যে আরও ১ কোটি ৮ লাখ ডোজ বিভিন্ন ধরনের ভ্যাকসিন দেশে পৌঁছাবে।
চলমান ‘হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬’ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, গত ৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে ৫ মে পর্যন্ত ১ কোটি ৬৮ লাখের বেশি শিশু টিকা পেয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার ৯৩ শতাংশ। দ্রুতই শতভাগ কভারেজ অর্জিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ সময় বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী ভ্যাকসিন সংগ্রহ ও কারিগরি সহায়তার জন্য ইউনিসেফ, গ্যাভি ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংককে (এডিবি) ধন্যবাদ জানান।
২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য সরকারের ১৫ মাসের আগাম সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে উল্লেখ করে সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিশ্বমানের কোল্ড চেইন বজায় রেখে মাঠ পর্যায় পর্যন্ত ভ্যাকসিনের গুণগত মান নিশ্চিত করা হচ্ছে। শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
অভিভাবক ও শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আপনারা শিশুদের এমআর টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করুন, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মারাত্মক ভাইরাস থেকে রক্ষা করা যায়।