বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালে মে ওপার বাংলার কলকাতার জোড়াসাকো জমিদার পরিবারে।
এপাড় বাংলায় পরিবারটির জমিদারী ছিল। এপাড় বাংলার রাজশাহী জেলার তৎকালীন নওগাঁ মহকুমার আত্রাই থানার কালিগ্রামে জমিদারী দেখা শোনার দায়িত্ব পেয়ে কবি এখানে আসেন। প্রথম দিকে কলকাতার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এখানে এসে নিজেকে খাপ খাওয়াতে না পেরে অন্বন্তী বোধ করতেন। যা তিনি তাঁর লেখা চিঠিতে স্বজনকে জানান।
১৮৯১ সাল তখন শীত কাল। কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আসেন তৎকালীন নওগাঁর আত্রাই থানার কালিগ্রামে। কিছু দিন পরে যান পাশের গ্রাম পতিসরে। কবি কখনো এপার বাংলার পাবনার শাজাদপুড়ে, কুষ্টিয়ার শিলাইদহ কখনো আবার ওপার বাংলায় অবস্থান করেন। কবির অনেক গুণের একটি গুণ ছিল যেখানে যেতেন যা দেখতেন যাদের সাথে মিশতেন সব কিছু চিঠিতে লিখে স্বজনদের জানাতেন। এক সময় তাঁর মনে পরিবর্তন আসে স্বজন কে জানান এখানে তাঁর ভাল লাগছে সব কিছু সুন্দর। তখন দূর অঞ্চলে যাওয়া আসার মাধ্যম ছিল নৌকা বা ট্রেন। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জমিদারী দেখা শোনার পাশাপাশি নিজেকে লেখা লেখিতে যুক্ত রেখে গ্রাম সমাজ উন্নয়ন গ্রামের মানুষের আত্ব নির্ভরশীলতা করার কথা ভাবেন। বিদেশে পড়ার সময় তাঁর ঘনিষ্টতা হয় সহপাটি বন্ধু লোকেন্দ্রনাথ পালিতের সাথে। ১৮৯২ সালে এই বন্ধুর আমন্ত্রণে তিনি রাজশাহী জেলা সদরে আসেন। লোকেন্দ্রনাথ পালিত তখন রাজশাহীর জেলা জজ। রাজশাহী এসোসিয়েশন কবি কে রাজশাহী কলেজের সাহিত্য সভায় আমন্ত্রণ জানালে কবি রাজশাহীতে এসে লিখেন ‘শিক্ষার হের ফের’ প্রবন্ধর। ২৬ নভেম্বর কলেজ শিক্ষক লাউঞ্জে এসোসিয়েশনের সভাপতি নাটোরের মহারাজা জগদিন্দ্রনাথ রায়ের সভাপতিত্বে কবি প্রবন্ধটি পাঠ করেন। এটি ছিল শিক্ষা বিষয়ে গুরুত্ব ভাবনা নিয়ে তাঁর লেখা। আলোচনায় অংশ নেন জেলা জজ কবির বন্ধু লোকেন্দ্রনাথ পালিত, এসোসিয়েশন সম্পাদক ইতিহাসবিদ অক্ষয় কুমার, শিক্ষাবিদ সৈয়দ আব্দুস সালেক। শিক্ষাবিদ কুমুদিনী কান্ত ব্যানার্জী, সাহিত্যিক প্রমথ চৌধুরী। (বিষয়টি ওপার বাংলাতে ও আলোচিত হয়, সংবাদপত্রে সংবাদ ছাপা হয়। রাজশাহী জেলা সদরের জেলা জজ বন্ধু পালিত বাড়িতে অবহান কালে কবি লিখেন “বসুন্ধরা”। ‘প্রতীক্ষা’র প্রথম স্তবক লেখেন এখানে। (মাঝের স্তবক নাটোরে এবং শেষ স্তবক লিখেন কুষ্টিয়ার শিলাইদহে)। এ বছরের ১ ডিসেম্বর দুই বন্ধু টমটমে নাটোরে যাবার সময় কবির বন্ধু লোকেন্দ্রনাথ পালিত সময় কাটানোর জন্য সিগারেট ধরিয়ে বই পড়তে থাকলে কবি গুন গুন করে গাইতে থাকেন গোবিন্দদাসের ‘সুন্দর........’গানটি। যাত্রা পথে ১০ মাইল পৌঁছালে কবি বন্ধু পালিত বৈষ্ণম কবিদের দিয়ে তর্ক শুরু করেন। তর্কের মধ্যে তারা পৌঁছে গেলেন কুশকায়া নদীর কাছে। তর্ক থামিয়ে টম টম থেকে নেমে সেতু পার হয়ে দুজনে হাটার সিদ্ধান্ত নিলেন। জোসনার আলোতে চারিদিক অন্য রকম। কিছু পথ হাটার পর অনেক রাতে তারা নাটোর পৌছালেন। পরের বছর ১৮৯৩, বাংলার শ্রাবন মাস পাবনার শাহাজাদপুওে কবি লিখলেন ৬৬২ লাইনের ‘পুরুষ্কার’ কচ ও দেবজানী কাহিনীর উপর ভিত্তি করে শুরু করলেন ‘বিদায় অভিশাপ’ পতিসর তাকে হাতছানি দিলে লেখা শেষ না করে পতিসরে যাবার সময় নদী পথে লেখাটি সংশোধন করতে গিয়ে ছবি আঁকার উপর তাঁরা আগ্রহ সৃষ্টি হল। ছবি আঁকার ব্যাপারে তার কোন ধারনা ছিল না। পতিসরে নিয়ে আসেন। এখানে স্থাপন করেন কৃষি ব্যাংক ও সমবায় পদ্ধতি। নোভেল পুরষ্কার পাওযায় পতিসর বাসী তাঁকে বিপুল সম্বধনা দেন। কবি নোভেল পুরুস্কারের সম্মানী হিসেবে পাওয়া টাকা ও বই লেখার সম্মানী এই ব্যাংকে দিয়ে দেন। তার উদ্দ্যেগে কৃষক ও গ্রাম বাসীর সহযোগিতায় জমিতে ট্রাক্টর চালিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের কাজ শুরু করেন। মহাত্মা গান্ধি কবির কিছু উপদেশ গ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে ভালো সমর্থক থাকলের বিবেধ ছিল গান্ধী চাইতেন চরকাটার মাধ্যেমে শ্রমের বিকল্প আর কবি চেয়েছিলেন সমবায়ের মাধ্যেমে সমাজ গড়তে। কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পদায়িক ছিলেন না। তাঁর কথা ধর্ম নিজস্ব সত্ত্বা। বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর জন্ম দিবসে তিনি মহানবীর মহত্ব বর্ণনা করে বিবৃতি দেন যা ওপার বাংলার কলকাতার সংবাদ পত্রে প্রকাশ হয়। ‘ঘরে বাইরে’ উপন্যাসে তিনি বলেন ভারত বর্ষ ধর্ম নিরপেক্ষ ও সব মানুষের আত্মত্ম সম্নান বোধ আছে। লিখেন ‘ধর্মের নব যুগ’। কবির উদ্দ্যেগে পতিসরে রেশম চাষ, দাতব্য চিকিৎসালয় স্থাপিত হয়। শিক্ষার উন্নয়নের উদ্দ্যেগ নেয়া হয়। তিনি শুধু কবি লেখক সাহিত্যিক নন তিনি ছিলেন সমাজ সংস্কারকও। পতিসর থেকে তিনি আত্রায়ে গিয়ে মহাত্মা গান্ধীর সাথে দেখা করে স্বদেশী আন্দোলন ও নানা বিষয়ে আলোচনা করতেন। কবি ব্রিটিশদের নির্যাতনে পতিবাদে তাঁকে দেয়া ‘নাইট’ উপাধি বর্জন করে বড় লট লোর্ড চেমাশকে চিঠি দেন। জালিয়ানাবাগে যে হত্যা কান্ড ঘটে তিনি সেটা মেনে নিতে পারেননি সান্ধ আইন উপেক্ষা করার উদ্দ্যেগ নিলে মহাত্মাগান্ধী তাঁকে বাধা দেন। আজ যে শ্লোগান দেয়া হয় কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে এটি ছিল কবিরই ভাবনা। আরেকটি বিষয় ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন যখন সাম্প্রদায়িকতার দিকে মোড় নেয় তখন তিনি সকলকে অবাক করে দিয়ে ওপার বাংলার কলকাতার নাখোদা মসজিদে গিয়ে মুসলমানদের হাতে রাখী পরিয়ে দেন। অনেকে বলেন কবি জমিদার পরিবারের সন্তান বড় লোকদের কবি। বাম রাজনীতি করা অনেকেই একি মত ঘোষনা করেন কিন্তু তার মধ্যে দেখা গেছে মানব প্রেম, দেশ প্রেম ও সাধারন মানুষের উন্নয়নে চিন্তা ভাবনা যা তারা তাদের ভবনা চিন্তায় রাখেন। তিনি কৃষক, সাধারন মানুষকে কখনো অন্যভাবে দেখেন নি দেখেছেন মানুষ হিসাবে। তার জমিদারিত্বের অনেক প্রজাই ছিল মসুলমান। তিনি যোগ্যতা অনুযায়ী তাদের পদ পরিবর্তন করে দেন। কবি কখনোই কাওকে ভুলতেন না। যেমন ভুলেনি যারা তাঁকে নৌকায় বহন করতেন। যারা কবিকে নিয়ে চর্চা করেন গবেষনা করেন তাদের লেখা অনেকের বধগম্য হয় না তাই তারা যদি সহজ সরল ভাবে তাদের লেখা গুলি লিখেন তাহলে পাঠকের আগ্রহ বাড়বে। প্রজন্মদের কবিকে সহজভাবে জানার ইচ্ছা জাগবে। কবির সাথে এপার বাংলার বহু মানুষের ঘনিষ্টতা হয়। তাদের স্মৃতিময় কথাগুলি যদি সংরক্ষণ করা যেতো তাহলে খুবই ভালো হতো। এপার বাংলার ময়মনসিংহ জেলার তৎকালীন নেত্রকোনা মহকুমার মোহনগঞ্জ থানার বাহন গ্রামের বিশেষ ব্যক্তির শিক্ষাবিদ আইনজিবি, সংগীত গুরু আচার্য শৈলজা রঞ্জনের সাথে একান্ত ঘনিষ্টতা গড়ে উঠে। কবি তাকে গুরুত্বপূর্ন দায়িত্ব দেন। তিনি কবিগুরুর বিলুপ্ত হওয়া গান গুলি সংরক্ষনের চেষ্টা কেরন। কবি গুরুর প্রায় দুইশ গানের স্বরলিপিকার তিনি। কবিকে নিয়ে কিছু একটা লিখবো এ ভাবনা বেশ কয়েক দিনের কিন্তু অশান্ত মনে সম্ভব হয়নি ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ রাত বারোটা থেকে একটা এই একঘন্টার মধ্যে লেখাটি লিখে শন্তি পেলাম। জানিনা লেখাটি কোন কাজে লাগবে কিনা তবুও লিখলামম জানা যায় একদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান কয়েকজন কে নিয়ে বসে ছিলেন। একজন এসে তাঁকে কি যেন বল্লে তিনি সকলকে জোরে জোরে কবিগুরুর লেখা’ আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি গাইতে বললেন। এই গানটি এখন আমাদের জাতীয় সংগীত।
তথ্য সূত্র : সাংবাদিক আব্দুস সাত্তারের ‘রবীন্দ্র বিশ্বে পতিসর’ চয়নিকার স্বরনিকা ও লেখকের নিজস্ব ভাবনা।