Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news
১১ মে ২০২৬
০১:০৯ অপরাহ্ন

হলের কর্মচারী শিমুলের বিরুদ্ধে আবারও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ,পুনরায় কারণ দর্শানোর নোটিস প্রদান

রুয়েট প্রতিনিধি: Shimul accused of financial irregularities again

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শহীদ লেফটেন্যান্ট সেলিম হলের সেকশন অফিসার শাহ মো:জাহাঙ্গীর কামাল চৌধুরী (শিমুল)-এর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, অতিরিক্ত অর্থ আদায়, দায়িত্বে অবহেলা ও অসদাচরণের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে হল প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে পুনরায় কারণ দর্শানোর নোটিস প্রদান করেছে।

এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে সেলিম হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা হল প্রভোস্ট ও উপাচার্যের নিকট পৃথক লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগপত্রে শিমুল ও অপর কর্মচারী সুজনের বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থ আদায়, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা, দায়িত্বে অবহেলা এবং চুরির অভিযোগ আনা হয়। 

অভিযোগের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ছিল কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইবনে করিমের ক্লিয়ারেন্স সংক্রান্ত ঘটনা। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ অক্টোবর তিনি সেলিম হল থেকে ক্লিয়ারেন্স গ্রহণ করেন। ওই সময় তার প্রায় ১৫ হাজার টাকার অধিক হল বকেয়া ছিল, যা তিনি নগদে শিমুলের নিকট পরিশোধ করেন। তবে পরবর্তীতে প্রায় দেড় বছর পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুনরায় বকেয়া টাকার বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিষয়টি সামনে আসে।

অনুসন্ধানে শিমুল টাকা গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করলেও ব্যাংকে জমা দেওয়ার কোনো রশিদ দেখাতে পারেননি। এমনকি টাকা ব্যাংকে জমা দিয়েছেন নাকি তার কাছেই রয়েছে-এ বিষয়েও তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, হিসাব বইয়ের একই পাতায় অন্যান্য শিক্ষার্থীদের অর্থ প্রদানের তথ্য কলম দিয়ে লেখা থাকলেও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর তথ্য পেন্সিল দিয়ে লেখা ছিল, যা নিয়ে নতুন প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে শিমুল জানান, কিছু শিক্ষার্থীর তাড়াহুড়ার কারণে তিনি নগদ অর্থ গ্রহণ করে ক্লিয়ারেন্স দিয়েছেন এবং এতে প্রভোস্টের সম্মতি ছিল। তবে পরবর্তীতে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আগের এক প্রভোস্টের নাম উল্লেখ করে পূর্বের বক্তব্য পরিবর্তন করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, হল অ্যালটমেন্টের সময় “ফর্ম বিক্রি”র নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হতো, যদিও এ ধরনের কোনো ফি অনুমোদিত ছিল না। পাশাপাশি ক্লিয়ারেন্স দেওয়ার সময় “মিষ্টি খাওয়ানো”র নামে জামানতের টাকা থেকে জোরপূর্বক অর্থ কেটে রাখার অভিযোগও তোলা হয়। 

হলের কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীও এ বিষয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৭ সিরিজের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগ করেন, হল অ্যালটমেন্টের সময় প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ২০ টাকা করে নেওয়া হতো এবং অনেক ক্ষেত্রেই প্রকৃত বকেয়ার চেয়ে বেশি টাকা দাবি করা হতো। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এক শিক্ষার্থীর প্রকৃত বকেয়া ১৭০০ টাকা হলেও প্রথমে ৪০০০ টাকা দাবি করা হয়েছিল; পরে হিসাব মিলিয়ে কম পরিমাণ টাকার সত্যতা পাওয়া যায়। 

এছাড়া ইইই বিভাগের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, হল-সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে অতিরিক্ত চার্জ দাবি করা হতো এবং আপত্তি জানালে নানা ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়তে হতো। অন্যদিকে আরেক শিক্ষার্থী জয়ন্ত বিশ্বাস রিসিপ্ট সংক্রান্ত জটিলতার অভিযোগ তুলেছেন। 

সাম্প্রতিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আবু বকর সিদ্দিকের তত্ত্বাবধানে দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটিতে দুইজন সহকারী প্রভোস্টকে রাখা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ও অভিযোগকারীদের তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে তদন্ত কমিটি আর্থিক অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে।

অভিযুক্ত শিমুল তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা জানেন আমি সবসময় আন্তরিকভাবে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আর্থিক অনিয়মের অভিযোগটি সঠিক নয়; ব্যক্তিগত গাফিলতির কারণে সমস্যাটি তৈরি হয়েছে। আমার এই ভুলটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ করছি।”

এ বিষয়ে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আবু বকর সিদ্দিক বলেন, “স্বচ্ছতা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে হল প্রশাসন নথি পুনরায় নিরীক্ষণের উদ্যোগ নেয়। এরই প্রেক্ষিতে আর্থিক অনিয়মের একটি অভিযোগ দৃশ্যমান হয়েছে। আমাদের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আমরা রুয়েট প্রশাসনের নিকট জমা দিয়েছি।” তিনি আরও বলেন, সকল হলে আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বাড়তি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, “হল প্রশাসনের তদন্ত রিপোর্ট আমরা গ্রহণ করেছি। ইতোমধ্যেই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে। অধিকতর তদন্তের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

উল্লেখ্য, অতীতেও অনুমোদনহীনভাবে বাড়তি অর্থ আদায়ের অভিযোগে শিমুলের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিস প্রদান করা হয়েছিল। এছাড়াও হলের একাধিক কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে আর্থিক অনিয়ম ও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে বলে জানা যায়।



© বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news