রাজশাহীর আমের সুনাম ও গুণগত মান অক্ষুণ্ন রাখতে ‘ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার’ প্রকাশ করেছে জেলা প্রশাসন। নির্ধারিত সময়ের আগে অপরিপক্ব আম বাজারজাত ঠেকাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের আশা, এর মাধ্যমে ভোক্তারা নিরাপদ ও পরিপক্ব আম পাবেন এবং আমচাষিরাও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে পারবেন।
রোববার দুপুরে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আম পরিবহন, সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ ক্যালেন্ডার প্রকাশ করা হয়। জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যৌথভাবে সভার আয়োজন করে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, রাজশাহীর আম দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও পরিচিতি পেয়েছে। এ সুনাম ধরে রাখতে হলে অবশ্যই পরিপক্ব আম বাজারজাত নিশ্চিত করতে হবে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, আমচাষি, ব্যবসায়ী ও কৃষি বিভাগের সমন্বয়ে ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার প্রস্তুত করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগে কেউ আম সংগ্রহ বা বাজারজাত করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকাশিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, গুটি আম সংগ্রহ করা যাবে ১৫ মে থেকে। গোপালভোগ ২২ মে, রাণীপছন্দ ও লক্ষ্মণভোগ ২৫ মে এবং হিমসাগর বা খিরসাপাত ৩০ মে থেকে বাজারজাত করা যাবে। এ ছাড়া ব্যানানা ম্যাঙ্গো ও ল্যাংড়া ১০ জুন, আম্রপালি ও ফজলি ১৫ জুন থেকে সংগ্রহ করা যাবে।
পরবর্তী সময়ে বারি আম-৪ নামানো হবে ৫ জুলাই, আশ্বিনা ১০ জুলাই এবং গৌড়মতি ১৫ জুলাই থেকে। তবে কাটিমন ও বারি আম-১১ জাতের আম সারা বছর বাজারে পাওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে।
সভায় কৃষি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, নির্ধারিত সময় মেনে আম সংগ্রহ করলে ফলের স্বাদ, রং ও পুষ্টিগুণ বজায় থাকে। একই সঙ্গে অপরিপক্ব ও রাসায়নিক ব্যবহার করা আম বাজারে আসার সুযোগ কমে যায়।
মতবিনিময় সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও ফল গবেষণা কেন্দ্রের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া আমচাষি, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।