Template: 3
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
অনলাইন ডেস্ক | ১৯ মে ২০২৬
bijoybangla.news
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক

কীভাবে ছড়ায়, ইবোলা ভাইরাস কী

অনলাইন ডেস্ক How is Ebola virus spread? What is it?

বর্তমান সময়ে আতঙ্কের আরেক নাম ইবোলা ভাইরাস। এটি একটি অত্যন্ত বিরল এবং মারাত্মক সংক্রামক ভাইরাস, যা ইবোলা ভাইরাস ডিজিজ (ইভিডি) বা ‘ইবোলা হেমোরেজিক ফিভার’ নামক প্রাণঘাতী রোগের সৃষ্টি করে। ইতোমধ্যেই এই ভাইরাসকে গ্লোবাল হেলথ ইমার্জেন্সি বলে ঘোষণা করে দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)।

বিশেষ করে আফ্রিকা মহাদেশের কঙ্গো এবং উগান্ডার ইবোলা সংক্রমণ বৃদ্ধিকে পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি অব ইন্টারন্যাশনাল কনসার্ন বলে ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে। ফলে দিন দিন আরও ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই মারণঘাতী ভাইরাস।

প্রাথমিকভাবে, মানুষ থেকে মানুষে বা সংক্রমিত বন্যপ্রাণী থেকে মানুষে শরীর নির্গত তরলের মাধ্যমে ছড়ানো এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুহার অনেক বেশি।

ইবোলা ভাইরাস কী?

এটি একটি জুনোটিক ভাইরাস। যা মেরুদণ্ডী প্রাণী থেকে প্রাকৃতিকভাবে মানুষের দেহে ছড়িয়ে পড়ে এবং রোগ সৃষ্টি করে। তারপর মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে যেতে পারে। আর এই ভাইরাসের মৃত্যুর হার প্রায় ৫০ শতাংশ।

ইবোলা ভাইরাসের বিরল ও অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি প্রজাতি হচ্ছে বুন্দিবুগ্য ভাইরাস। এটি তীব্র ভাইরাল হেমোরেজিক জ্বর সৃষ্টি করে, যা মানুষের জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে।

ইবোলা ভাইরাস ছড়ায় কীভাবে?

এটি এমন একটি জুনোটিক ভাইরাস, অর্থাৎ কোনো প্রাণীর শরীর থেকেই এই ভাইরাস মানবদেহে প্রবেশ করে। বাদুড়, বিশেষত ফল বাদুড়কে এই ভাইরাসের বাহক হিসেবে মনে করা হয়। এছাড়া, শিম্পাঞ্জি, গোরিলা, বাঁদর বা ওই জাতীয় কোনো প্রাণীর রক্ত বা শরীরের অন্য কোনো তরল থেকেও এই ভাইরাস জীবাণু মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। তারপর মানুষ থেকে মানুষে এটি ছড়াতে পারে। এক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত, লালা, ঘাম, বমি, মল, মূত্র, বুকের দুধ বা বীর্যের সরাসরি সংস্পর্শে এলে এবং তা সুস্থ ব্যক্তির ত্বকের কাটা অংশ বা চোখের/মুখের শ্লেষ্মা মাধ্যমে ভেতরে প্রবেশ করলে এই ভাইরাস ছড়াতে পারে।

এছাড়া, আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত কাপড়, বিছানাপত্র, চিকিৎসা সরঞ্জাম বা সুঁইয়ের মাধ্যমেও এই রোগ ছড়াতে পারে।

ইবোলা ভাইরাসের উপসর্গ কী?

এই ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করার মোটামুটি তিন সপ্তাহ চুপচাপ বংশবৃদ্ধি করতে পারে। গড়ে ২১ দিনের মাথায় লক্ষণ প্রকাশ পায়। ভাইরাসের এই পর্যায়কে বলা হয় ইনকিউবেশন পিরিয়ড।

এক্ষেত্রে প্রামথিকভাবে জ্বর, ক্লান্তি, পেশিতে ব্যথা, মাথা ব্যথা ও গলা ব্যথা শুরু হয়। তারপর বমি, ডায়ারিয়া, পেট ব্যথা, কিডনির সমস্যা ও লিভারের সমস্যা দেখা যেতে পারে।

অনেক ক্ষেত্রে রোগীর শরীরে ইন্টারনাল এবং এক্সটারনাল ব্লিডিংও শুরু হয়ে যায়। এসময় বমি এবং মলে দেখা যায় রক্ত। পাশাপাশি নাক, মাড়ি এবং ভ্যাজাইনা থেকেও রক্ত বের হতে পারে। একই সঙ্গে বিভ্রান্তি, অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। তাই এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে রোগীর দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে হয়।

ইবোলা ভাইরাসের চিকিৎসা কী?

এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকরী কোনো অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ কাজ করে না। এখন পর্যন্ত এই রোগের কোনো টিকা আবিষ্কার হয়নি। তাই রোগ দ্রুত শনাক্তের পর রোগীকে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি লক্ষণ অনুযায়ী রোগীকে দেওয়া হয় চিকিৎসা। তাতেই রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন।



এসআইএল/বিবিএন

© বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news