পঞ্চগড়ে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ ২ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে দেবীগঞ্জ উপজেলায় বালুবাহী ট্রাকের চাপায় পাপড়ী রাণী রায় (৬) নামে এক শিশু নিহত হলে বিক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক ট্রাকে আগুন দেয়।
অন্যদিকে তেঁতুলিয়ায় ট্রাক্টরের নিচে চাপা পড়ে আনোয়ার হোসেন (২১) নামে এক ট্রাক্টরের শ্রমিক নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সন্ধ্যায় বোদা-দেবীগঞ্জ সড়কে দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নের সোনাপোতা পাঁচকল এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত পাপড়ী ওই এলাকার সেবেন্দ্রনাথ রায়ের মেয়ে। সে সোনাপোতা ২ নন্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যায় সোনাপোতা পাঁচকল এলাকায় ভুট্টা শুকানোর কাজ করছিলেন পাপড়ীর বাবা। বাবাকে খুঁজতে গিয়ে পাপড়ী সড়ক পাড় হওয়ার সময় দেবীগঞ্জমুখী দ্রুতগামী একটি বালুবাহী ট্রাক শিশুটিকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা ট্রাকটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। দুর্ঘটনার পর চালক ও তার সহকারী ট্রাক ফেলে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘাতক ট্রাকটি থানায় নিয়ে যায়।
দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম মালিক জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে শিশুটির মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
অন্যদিকে একই দিনে বিকেলে তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের ধারাগছ এলাকায় ট্রাক্টর উলটে আনোয়ার হোসেন নামে এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। নিহত আনোয়ার মাঝিপাড়া এলাকার ইব্রাহিম হোসেনের ছেলে। তিনি ওই ট্রাক্টরে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
পুলিশ জানায়, ট্রাক্টরটি মোড় নেওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেলে আনোয়ার এর নিচে চাপা পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লাইছুর রহমান বলেন, ট্রাক্টরটি পুলিশ হেফাজতে রয়েছে এবং এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জনানা তিনি।