Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news
২৬ মে ২০২৬
০১:২৫ অপরাহ্ন

রাজশাহীতে ইটের প্রাচীরের ভেতর বাঁশের বেড়া দিয়ে জমি দখল

আবুল কালাম আজাদ Land grabbing with bamboo fences

রাজশাহীতে প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের চার কাঠা জমি দখলে নিতে ইটের সীমানা প্রাচীরের ভেতর বাঁশের বেড়া দিয়েছেন স্থানীয় বিএনপির এক নেতার ভাই। প্রাচীর টপকে ভেতরে ঢুকে গত শনিবার(২৩মে) দুপুরে নগরের সপুরা এলাকায় এভাবে বেড়া দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

 ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বিএনপি নেতা ভাইয়ের দাপট দেখিয়ে জমিটি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন মো. ছানা নামের এই ব্যক্তি। তার ভাই সুমন সরদার শাহমখদুম থানা বিএনপির আহ্বায়ক।

সপুরা এলাকার ৯ বিঘা আয়তনের এই জায়গাটিতে আগে পুকুর ছিল। এরমধ্যে ১৮ জন ব্যক্তি ৩ বিঘা জায়গা কিনে নিজেরা একটি সমিতি গঠন করে ভরাট করেছেন। যার যতটুকু জায়গা তিনি সেই হিসেবে সমিতিতে টাকা দিয়েছেন ভরাটের জন্য। এরপর নিজেরা সীমানা প্রাচীরও দিয়েছেন। এরমধ্যে সোহেল রানা, কেয়া আক্তার ও মোসা. সাথীয়ারা নামের তিনজনের জমি আছে ২৪ শতক। পুরোটিই ইটের সীমানা প্রাচীরে ঘেরা। এর ভেতরেই দেওয়া হয়েছে বাঁশের বেড়া।

স্থানীয় লোকজন জানান, গত শনিবার বিএনপি নেতা সুমন সরদারের ভাই ছানা এই বেড়া দিয়েছেন। সীমানা প্রাচীরের সামনে একটি গেটও আছে। সেটিতে তালা দেওয়া। তাই তারা সীমানা প্রাচীর টপকে ভেতরে ঢুকে বেড়া দেন। ছানা দাবি করছেন, সেখানে তিনি দুই কাঠা জমির বায়না করেছেন। কিন্তু সোহেল রানা বলছেন, বেড়া দেওয়া হয়েছে চার কাঠা জমিতে। আর ছানা যে জমি বায়না করার কথা বলছেন সেই জমির চৌহদ্দি আরও পশ্চিমে।

কাগজপত্রে দেখা গেছে, ২০২৩ সালের ১৮ অক্টোবর মনিরুজ্জামান নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২৪ শতক জায়গা কেনেন সোহেল রানাসহ তিনজন। রাজশাহী সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমির নিবন্ধন হয়। এরপর তারা ডিসিআর কেটে নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করছেন। ভূমি অফিস থেকে তাদের আলাদা খতিয়ানও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই জমির ভেতরেই বিএনপি নেতা সুমনের বড় ভাই ছানা চার কাঠা জমি বাঁশের বেড়ায় ঘিরেছেন।

যোগাযোগ করা হলে মো. ছানা দাবি করেন, আনোয়ার সাদাত নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে দুই কাঠা জমি কিনতে সম্প্রতি তিনি এক লাখ টাকায় বায়না করেছেন। আনোয়ার সাদাত নান্নু তাকে জমি দেখিয়ে দিয়েছেন। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই আনোয়ার সাদাত নান্নু রয়েছেন আত্মগোপনে। তিনি কাটাখালী পৌরসভার সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র। কথা বলার জন্য তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। তাই সম্প্রতি ছানাকে জমি দেখিয়েছেন কি না বা বায়না করেছেন কি না সে বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলা যায়নি।

এদিকে সোহেল রানা জানিয়েছেন, ওই পুকুরে আনোয়ার সাদাত নান্নুর দুই কাঠা জমি আছে। কিন্তু তারা যে ১৮ জন ৩ বিঘা কিনেছেন তার ভেতরে আনোয়ারের জমি নেই।  সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা তার ১৪ কাঠা জমির পশ্চিম দিকে নাদার আলীর বাড়ির পাশে আনোয়ারের জমির চৌহদ্দি। সেখানে এখনও পানি আছে। আনোয়ার না থাকার সুযোগে তার জমির বায়না করার নামে ছানা তাদের মূল্যবান ৪ কাঠা জমি দখলের চেষ্টা করছেন বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, ‘আমি জমি কিনে যথারীতি খাজনা-খারিজ করেছি। ইটের সীমানা প্রাচীর দিয়েছি। প্রাচীরের ভেতর ঢুকে তো বেড়া দেওয়া যায় না। শুনেছি ছানার ভাই বিএনপি নেতা। সেই প্রভাবে গায়ের জোরে তিনি বেড়া দিয়েছেন। আমরা থানায় অভিযোগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগের ব্যাপারে শাহমখদুম থানা বিএনপির আহ্বায়ক সুমন সরদারের ভাই মো. ছানা বলেন, ‘আমি জমি দখলের চেষ্টা করছি না। কাটাখালীর আনোয়ার সাদাত নান্নুর সঙ্গে আমি বায়না করেছি। বায়না করতে এক লাখ টাকা দিয়েছি। নান্নু আমাকে জমি দেখিয়ে দিয়েছে। সে অনুযায়ী আমি দুই কাঠা জমির মালিক।’ দুই কাঠা জমির বায়না করা হলেও প্রাচীরের ভেতর চার কাঠা জমিতে বেড়া দেওয়ার বিষয়ে তিনি সদুত্তর দেননি।




© বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news