Template: 3
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
অনলাইন ডেস্ক | ০১ জুন ২০২৬
bijoybangla.news
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক

আমাদের প্রিয় আবেদা বুবু

সেলিম জাহাঙ্গীর Abeda Bubu

সাতটি বছর হয়েগেল আমাদেও প্রিয়জন বাংলাদেশ বেতার রাজশাহীর ষ্টাফ আর্টিস্ট জনপ্রিয় শিল্পী সুলতানা রাজিয়া বেগম বুলা ( বেতারের নাম আবেদা বুবু)‘র আমাদের ছেড়ে চলে যাওয়া। ২০১৮সালে ২জুন দুপুরে তিনি আমাদের ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে যান আমি বেতারের একদজন শিল্পি তাই তাকে ভিষন মনে পরে। তিনি ছিলেন মিশুক ব্যক্তিত্ব তার জন্ম হয় তৎকালীন ভারতবর্ষের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরে রেশম অফিসার নানা গোলাম আহাম্মেদের বাড়িতে। বাবা মরহুম জহির উদ্দিন বিশ্বাস ছিলেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব, আইনজীবি, বিট্রিশ বিরোধী আন্দোলনের প্রথম সারির নেতা বিট্রিশ বিরোধী রেগুলেশন ফোর্সের কনভেনার । খুব ছোট থাকলেও সুলতানা  রাজিয়া বেগম সেই সময় বড় বড় নেতাদের কাছে পেয়েছিলেন। একবার ভাই মঞ্জুরুল হক কে নিয়ে মিছিলে হারিয়ে গেলে তার বাবার কর্মীরা তাকে বাড়িতে পৌছে দেন। দেশ বিভাগের পর মা-বাবা অন্যান্যদের সাথে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজশাহীতে চলে আসেন। এপারে এসে চলচ্চিত্র পরিচালক ঋত্বিক ঘটক তার পরিবারের সাথে ঘনিষ্ঠতা গড়ে উঠে। দুই পরিবার একসাথে থাকতে থাকেন এরপর রাজারহাতায়।  বই পড়তে তার প্রচন্ড ভাল লাগত। পড়াশোনা শুরু রাজশাহী পি.এন. স্কুলে, এরপর রাজশাহী কলেজে এই সময় যখন মেয়েদের শার্ট পড়া প্রচলন তেমন ছিল না তিনি তখন শার্ট পায়জামা পড়ে ছেলে সহপাঠীদের  সাথে ক্লাস করতেন। ভাল শ্যূটার ছিলেন,ভাল গান্ও গাইতে পারতেন, এক পর্যায়ে সাঁতার্ওে পারদর্শী হয়ে উঠেন। রাজশাহী প্রিপারেটি স্কুল পি.এন  গার্লস স্কুলে কিছুদিন শিক্ষকতা করে বেতারে যুক্ত হন। ভাল ইংরেজি ও উর্দু বলতে পারতেন। বিবিসি, ভয়েস অব আমেরিকা বেতারে যুক্ত হবার প্রস্তাব পান কিন্তু থেকে গেলেন রাজশাহীতে। ওপার বাংলার শ্রোতাদের কাছেও তিনি জনপ্রিয় ছিলেন। কোলকাতা বেতার থেকে তাকে সেখানে যুক্ত হবার জন্য প্রস্তাব দেয়া হয়। সুলতানা রাজিয়া বেগম বুলা বাংলাদেশ বেতার রংপুরে কেন্দ্রেও দ্বায়িত্ব পালন করেন। রজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের  এককালের শিক্ষার্থী সুলতানা রাজিয়া বেগম বড় ভাই বিচারপতি হাবিবুর রহমান শেলী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্বে থাকার সময় দেশ পরিচালনায় কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। আরেক ভাই মরহুম সাংবাদিক মঞ্জুরুল হক অনেকের ভাগ্য পরিবর্তনে ভ’মিকা রেখেছেন। ছোট ভাই ওয়ালিউর রহমান বাবু সমাজকর্মী, সাংস্কৃতিক কর্মী, রেডিও প্রযোজক, উপস্থাপক ও তথ্য সংগ্রহে  ভূমিকা রেখে চলেছেন। সুলতানা রাজিয়া বেগমের নানা স্মৃতির একাত্তরের স্মৃতিচারনে জানা যায় ২৫ মার্চ পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলে তিনি বাড়ির পাশে থাকা ঘনিষ্টজন তৎকালীন রাজশাহী ক্রিমিনাল ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ সি.আই.বি‘র এ.ডি দুলাভাই খলিলুর রহমানের (শহীদ) কাছে পরামর্শ নেন। বড়ভাই বা অন্য কারও সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব না হওয়া ২৮ মার্চ রাজশাহী পুলিশ লাইনের পতন হলে খলিলুর রহমানের পরামর্শে তিনি স্বজনদের নিয়ে গ্রামে চলে গেলে পারিবারিকভাবে পরিচিত মুক্তিযুদ্ধের এক সংগঠক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব দেখা করে বলেন পাশে আছেন, প্রয়োজনে একসাথে নিরাপদ স্থানে চলে যাবেন। কিন্তু তিনি কথা রাখেননি পাকিস্তানী সৈন্যরা গ্রামটি আক্রমন করে হত্যা কান্ড নির্যাতন চালায়। পরিস্থিতির কারনে সীমান্ত পার হ্ওয়া সম্ভব না হ্ওয়ায় তিনি বাইসাইকেলে রাজশাহী জেলা সদরে এসে জানতে পান ঘনিষ্ঠজন খলিলুর রহমানকে পাকিস্তানী সৈন্যরা ধরে নিয়ে গেছে। এটি জেনে প্রচন্ড কষ্ট পেয়ে অভিভাবকহীন হয়ে পড়েন। স্বজন নিয়ে  রাজশাহী জেলা সদরে ফিরেন, মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী সহযোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা রজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকত্যা দেওয়ান আব্দুল খালেকর সাথে তার যোগাযোগ চলতে থাকে । পাকিস্তানপন্থীরা নজরদারি করছে সেটা  সুলতানা রাজিয়া বেগম বুঝেছিলেন কিন্তু তিনি কাঊকে কিছু বলেননি।

দ্ওেয়ান আব্দুল খালেকর  প্রস্তাব চুরান্ত করার মুহুত্তে পাকিস্তানী সৈন্যরা আত্মসমর্পন করে ১৬ ডিসেম্বর সেই ঐতিহাসিক দিনে তিনি বেতারে বিশেষ দায়িত্ব পালন করার সময় পাকিস্তানী সৈন্যরা আত্মসমর্পনের খবরটি  প্রচারে ভুমিকা রাখেন। এদিন মুক্তি বাহিনী অগ্রগমী দল তাদের বাড়িতে চা পান করেন। ১৭ ডিসেম্বর মুক্তি বাহিনী ও মিত্র বাহিনী রাজশাহী জেলা সদরে অ্যাডভন্সের দিন ও ১৮ ডিসেম্বর রাজশাহী মুক্ত দিবসের দিন তিনি বেতারে বিশেষ দায়িত্ব পালন করেন। একদিন পর বীর মুক্তিযোদ্ধা ৭ নং সেক্টরের ২য় সেক্টর কমান্ডার কর্নেল কাজী নুরুজ্জামান বীর উত্তমের মেয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা লায়লা, তার বোন, স্নেহের বীর মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্ট্যান্ট বজলুর রশীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্ট্যান্ট কাইয়ুম তার সাথে দেখা করে দোয়া নেন। বিবিসি, ভয়েস অব আমেরিকা বেতারে যুক্ত হবার প্রস্তাব পান কিন্তু তিনি রাজশাহীতে  থেকে গেলেন। কোলকাতা বেতার থেকে তাকে সেখানে যুক্ত হবার জন্য প্রস্তাব দেয়া হয়। সুলতানা রাজিয়া বেগম বুলা বাংলাদেশ বেতার রংপুরেও দ্বায়িত্ব পালন করেন। রাজশাহী বেতার থেকে অবসর নেয়ার পর অসুস্থ হয়ে মৃত্যু বরন করেন।

তথ্য সুত্রঃ আহম্মেদ সফিউদ্দিনসাবেক ডেপুটি রেজিঃ রাঃ বিঃ সমাজ চিন্তাবিদ ও সুলতানা রাজিয়া বেগমের সজনগন 

লেখকঃ সাংবাদিক, লেখক নাট্যব্যক্তিত্ব, চিত্রগ্রাহক সংস্কৃতিক ব্যক্তিত¦ ও সমাজ কর্মী ফোটোসাংবাদিক 


© বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news