সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) যশোরের বেনাপোল সীমান্তে পুশইন করার চেষ্টা চালিয়েছে। সোমবার (১ জুন) ভোররাতে সীমান্তে কাঁটাতারের গেট খুলে নারী ও শিশুসহ বেশ কয়েকজন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ।
তবে, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বিষয়টি টের পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তা প্রতিহত করেছে। এ ঘটনায় একটি পতাকা বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
সীমান্ত সূত্র জানায়, বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টের উত্তরে সাদিপুর সীমান্তের বিপরীতে ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার জয়ন্তীপুর সীমান্তে জিরো লাইনে এই ব্যক্তিদের জড়ো করে রাখা হয়েছে। নারী ও শিশুসহ কয়েকজন সেখানে খোলা আকাশের নীচে মানবেতর অবস্থায় রয়েছেন।
যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, গতকাল রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটা বা পৌনে চারটার দিকে ওই কয়েকজনকে কাঁটাতারের বেড়া পার করে দেয়। কিন্তু তারা এখনও আন্তর্জাতিক সীমান্ত পার হতে পারেনি।
তিনি জানান, বিজিবির কাছে আগে থেকেই খবর ছিল যে, বেনাপোল সীমান্তের কয়েকটি জায়গা থেকে পুশইনের চেষ্টা করা হতে পারে। তাই, আগে থেকেই মানচিত্র ধরে সতর্ক অবস্থানে ছিল বিজিবি।
তিনি বলেন, গতকাল আনুমানিক ১০০-১২০ জন লোক নিয়ে ট্রাকের মতো তিনটি গাড়ি বিভিন্ন জায়গায় জায়গায় কাঁটাতারের বেড়ার সাথে লাগানো লাইট নিভিয়ে দেয়, ইচ্ছে করে। গেটগুলো খুলে খুলে ভেতরে পুশইনের চেষ্টা করছিল। কিন্তু আমরা আগে থেকে প্রস্তুত ছিলাম।
সাইফুল ইসলাম খান বলেন, বিএসএফের যেকোনো ধরনের অবৈধ পুশইন বা পুশব্যাকের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করতে বিজিবি সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কা অবস্থায় রয়েছে। কোনো অবস্থাতেই সীমান্ত আইন অমান্য করে কাউকে বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না। সীমান্তে বিজিবির টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
ভারতীয় সীমান্তের বিপরীতে বাংলাদেশের যশোর জেলার শার্শা উপজেলার সাদিপুর সীমান্ত এলাকা। পুশ ইন রোধে জেলার সব সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
বিজিবি কর্মকর্তা আরও বলেন, বিএসএফের ঠেলে পাঠানো ৮/১০ জন নারী-পুরুষ ও শিশু বেনাপোল সীমান্তের সাদিপুর মাঠের ভারত-বাংলাদেশের জিরো লাইনে অবস্থান করছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য বিএসএফকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে বলেও উল্লেখ করেন বিজিবির এই কর্মকর্তা।
এদিকে ঘটনাস্থলের ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা মাহবুব বলেন, সিও স্যার এখানে আছেন। এই মুহূর্তে কোনো কথা বলতে পারছি না।