Template: 3
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
অনলাইন ডেস্ক | ০৪ জুন ২০২৬
bijoybangla.news
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক

নিউজিল্যান্ডের ৪ সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে চীনের নিষেধাজ্ঞা

অনলাইন ডেস্ক China sanctions 4 members of parliament

তাইওয়ান ভ্রমণ করায় নিউজিল্যান্ডের চার সংসদ সদস্যের ওপর প্রথমবারের মতো এক বছরের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে চীন। বৃহস্পতিবার নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মে মাসে তাইওয়ান সফর থেকে ফেরার পর চীনের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে জানতে পারেন ওই সংসদ সদস্যরা। তবে চীনা দূতাবাস বলেছে, নিউজিল্যান্ডের ওই সংসদ সদস্যরা ক্ষমা চাইলে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ কমানো কিংবা প্রত্যাহার করে নেওয়া হতে পারে।

১৯৪৯ সালে চীনে কমিউনিস্টরা ক্ষমতা দখল করার পর দেশটির মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তাইওয়ান। যদিও তাইওয়ানকে বরাবরই নিজেদের একটি প্রদেশ বলে মনে করে বেইজিং। এরপর থেকে নিজস্ব সরকারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে তাইওয়ান।

দীর্ঘকাল ধরে এই দ্বীপ ভূখণ্ডের বৈদেশিক কার্যকলাপ সীমিত করার চেষ্টা করে আসছে বেইজিং। বিবৃতিতে নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, তাইওয়ান সফর করায় নিউজিল্যান্ডের সংসদ সদস্যদের ওপর চীন এই প্রথমবার ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। দেশটির এমন পদক্ষেপে পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স ‘বিস্মিত’ হয়েছেন।

তিনি বলেন, নিউজিল্যান্ডের সংসদ সদস্যরা কয়েক দশক ধরে তাইওয়ান সফর করে আসছেন। এই ধরনের সফর নিউজিল্যান্ডের ‘এক চীন নীতির’ সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

নিউজিল্যান্ডে অবস্থিত চীনা দূতাবাস এক বিবৃতিতে বলেছে, নিউজিল্যান্ডের সংসদ সদস্যরা চীনের গুরুতর উদ্বেগ উপেক্ষা করে তাইওয়ান সফরের ব্যাপারে জোর দেওয়ায় এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সফর তাইওয়ানের ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক প্রোগ্রেসিভ পার্টি এবং ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতার’ শক্তিগুলোর কাছে ‘ভুল বার্তা’ পাঠিয়েছে। এটিকে ‘চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ’ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলেছে, চলতি বছরের মে মাসে নিউজিল্যান্ডের ক্ষমতাসীন জোটের সংসদ সদস্য মরিন পু, ডেভিড উইলসন ও লরা ম্যাকক্লুর এবং বিরোধী লেবার পার্টির ডানকান ওয়েব তাইওয়ান সফর করেন। ম্যাকক্লুর বরাতে নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডের প্রতিবেদন বলা হয়েছে, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এক ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ। এজন্য তিনি ক্ষমা চাইবেন না।

রেডিও নিউজিল্যান্ডকে তিনি বলেন, এই নিষেধাজ্ঞায় তিনি বেশ অবাক ও হতবাক হয়েছেন। কারণ এর আগেও বছরের পর বছর ধরে একই ধরনের সফর হয়ে এসেছে। নিউজিল্যান্ডের সংসদ সদস্যদের বিশ্বে অবাধে ভ্রমণ করার অধিকার রয়েছে। এটাই মুক্ত গণতন্ত্রে বসবাসের অংশ।

নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার্স ‘অতীতের রীতি থেকে এই বিচ্যুতি’ আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য চীনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে বেইজিং ও ওয়েলিংটনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।

নিউজিল্যান্ড ১৯৭২ সালে বেইজিংয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। দেশটি তখন থেকেই ‘এক চীন নীতি’ মেনে চলছে। চীনে কেবল একটিই সরকার রয়েছে বলে কূটনৈতিক স্বীকৃতিই এ নীতির মূল বিষয়বস্তু।

নিউজিল্যান্ডের আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক শুধুমাত্র বেইজিংয়ের সঙ্গেই, তাইপের সঙ্গে নয়। কিন্তু অন্য অনেক দেশের মতো নিউজিল্যান্ডও তাইওয়ানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছে।

সূত্র: বিবিসি

© বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news