
দীর্ঘ দেড় বছর ধরে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ না হওয়ায় পশ্চিমাঞ্চলের রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রধান প্রকৌশলী (পশ্চিম) দপ্তর থেকে বিভাগীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না পৌঁছানোয় মাঠপর্যায়ের কর্মীরা নিত্যদিনের কাজ পরিচালনায় চরম সংকটে পড়েছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, রেলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে মৌলিক ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি দরকার, তার ঘাটতি এখন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সম্পন্ন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে, ফলে নিরাপদ ট্রেন চলাচল নিয়েও তৈরি হয়েছে শঙ্কা।
ওয়েম্যানদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে অনেক কাজই নির্ধারিত সময় ও মান অনুযায়ী সম্পন্ন করা যাচ্ছে না। এতে রেলপথের তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ছাড়া কীভাবে রেলপথ নিরাপদ রাখা হবে?
এছাড়া ওয়েম্যানদের কাজের ফাঁকে বিশ্রামের জন্য তাঁবু ও ছাতা সরবরাহের নিয়ম থাকলেও তা সরবরাহ করে হয়না। ফলে প্রচন্ড তাপ ও বৃষ্টিতে তাদের কাজ করতে হচ্ছে।
কর্মকালীন সময়ে তাদের নূন্যতম পাওয়ানা সুবিধাটুকু থেকে তারা বঞ্ছিত।এরই মধ্যেই তাদের কাজ করতে হয়।
ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী পথ রাজশাহী (সদর) বাকিউল্লাহ বলেন,আমি সম্প্রতি রাজশাহীতে যোগদান করেছি। আমার বুঝে পাওয়া সরঞ্জামাদি দিয়ে রেললাইন সচল রাখার প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছি।
লাইনে কাজ করা গাঁতি,কোদাল রডরেঞ্জ, কি গুলো অনেক পূরানো হওয়ায় কাজের গতী বাড়ানো যাচ্ছে না। তা ছাড়া মান্ধাতা আমলের সরঞ্জামাদি ও সীমিত লোকবল দিয়ে দীর্ঘ রেলপথ সচল রাখতে হিমসিম খেতে হচ্ছে।
সহকারী প্রকৌশলী ( রাজশাহী সদর) আব্দুর রশিদ বলেন,তার আওয়াতাধীন রেললাইন সংস্কারে যথাসাধ্য কাজ করে যাচ্ছেন। মান্ধাতা আমলের পুরাতন যন্ত্রপাতি দিয়ে ওয়েম্যানদের কাজ করে রেললাইন সচল রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বিংশ শতাব্দীতে এসে ও স্লীপার বদল ও ব্যালিস্ট প্যাকিং ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে করতে হচ্ছে।মেয়েদাতীর্ন রেললাইন শীত ও গ্রীষ্মে ফেটে যাওয়া স্থান গুলো ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে সংস্কার করতে হচ্ছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি না থাকায় সেগুলো মেরামতের সময় কালক্ষেপন ও যাত্রী দূর্ভোগ বাড়ছে।
এছাড়া লোকবল সংকট, পুরোন যন্ত্রপাতি,সময়মত সরবরাহ না পাওয়া সহ নানা প্রতিকূলের মাঝে রেললাইন সচল রাখতে কাজ করতে হয় তাদের।
সহকারি প্রকৌশলী আরো বলেন, রেললাইন নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ভারী যন্ত্রপাতির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরণের হস্তচালিত ও হাইড্রোলিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়।
কাটার ও ড্রিলার (Cutting & Drilling): রেললাইন নির্দিষ্ট মাপে কাটার জন্য রেল স (Rail Saw) এবং নাট-বল্টুর ছিদ্র করার জন্য রেল ড্রিল (Rail Drill)।হ্যান্ড টুলস (Hand Tools): স্লিপারের নাট বা ক্লিপ লাগানোর জন্য ক্লিপিং মেশিন (Clipping machines) এবং স্পাইক বা স্ক্রু টাইট দেওয়ার জন্য ল্যাগ ড্রাইভার (Lag driver)।ভারী নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ যন্ত্র: লাইন ঠিক করার জন্য ট্যাম্পিং মেশিন (Tamping machine) এবং ভারী উপাদান ওঠানোর জন্য টেইল ক্রেন (Tie crane) ব্যবহৃত হয়।পরিমাপক (Track Geometry): লাইন সমতল ও নিখুঁত আছে কিনা তা যাচাই করার জন্য ট্র্যাক চেকার (Track checker) ও ট্র্যাক জিওমেট্রি কার (Track geometry car) ব্যবহার করা হয়।অন্যান্য: কাজের প্রয়োজনে গ্রাইন্ডার (Grinder), রেল পুলার (Rail puller) এবং ওয়েল শেয়ার (Weld shear) অপরিহার্য।
এ গুলো সময় মত সরবরাহ না হলে রেললাইন সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
দীর্ঘদিন ধরে সরবরাহ সংকট চললেও তা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগের অভাব রেলওয়ের দায়িত্বশীল মহলের ভূমিকা নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহে অব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘসূত্রতা অব্যাহত থাকলে পশ্চিমাঞ্চলে নিরাপদ ট্রেন চলাচল আরও বড় হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সাপ্লাই না দেওয়া, কাজের ধীরগতি ভবিষ্যতে নিরাপদ রেলপথ ও ট্রেন চলাচলের জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করছেন রেলওয়ে সংশ্লীষ্টরা ও যাত্রী সাধারণ।