Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news
০৭ জুন ২০২৬
০২:৩৯ অপরাহ্ন

রামিসা হত্যার রায়ের পর্যবেক্ষণে যা বললেন আদালত

অনলাইন ডেস্ক What the court said in its observation of the Ramisa murder verdict

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার মামলায় রায় ঘোষণাকালে আদালত বলেছেন, এ মামলাটি কেবল একটি ফৌজদারি বিচারিক কার্যক্রম নয়। এটি সমাজের বিবেক, মানবতা, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং আইনের শাসনের প্রতি এক গভীর ও কঠিন পরীক্ষা।

রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেন, একটি নিষ্পাপ শিশুর জীবন নির্মমভাবে নিভিয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া এ মামলার প্রতিটি পৃষ্ঠা বেদনা, ক্ষোভ, উদ্বেগ এবং ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় পরিপূর্ণ। শিশুদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি সভ্য ও মানবিক রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। কোনো শিশু যখন যৌন নির্যাতন, সহিংসতা কিংবা হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের শিকার হয়, তখন তা শুধু একটি পরিবারকে নয়, সমগ্র সমাজকে আহত করে এবং রাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতাকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।

আদালত বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে গঠিত ট্রাইব্যুনাল বর্তমানে এক হাজার আটশতাধিক বিচারাধীন মামলার দায়িত্ব পালন করছে। এসব মামলার প্রতিটির পেছনে রয়েছে কোনো না কোনো শিশুর অসহনীয় যন্ত্রণা, একটি পরিবারের দীর্ঘশ্বাস এবং ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা। তবে রামিসার মামলাটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কারণ এ মামলায় তদন্ত, বিচারিক কার্যক্রম ও সাক্ষ্যগ্রহণ তুলনামূলকভাবে দ্রুত সময়ে সম্পন্ন হয়েছে।

পর্যবেক্ষণে আদালত সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, তদন্তকারী সংস্থা অল্প সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছে। একইভাবে প্রসিকিউশনও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের দ্রুত আদালতে হাজির করে বিচারকার্য এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তদন্তকারী কর্মকর্তা, প্রসিকিউশন এবং সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্ব প্রশংসার দাবিদার।

আদালত আশা প্রকাশ করেন, রামিসার মামলার মতো দ্রুত, দক্ষ, নিরপেক্ষ ও মানসম্মত তদন্ত এবং বিচারিক কার্যক্রম ভবিষ্যতে শিশু নির্যাতন ও সহিংসতা-সংক্রান্ত অন্যান্য মামলার জন্য অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। ভুক্তভোগী শিশু ও তাদের পরিবার যেন অযথা দীর্ঘসূত্রিতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে না থাকে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একই ধরনের দায়িত্বশীলতা প্রদর্শনের আহ্বান জানান আদালত।

রায়ে আরও বলা হয়, ন্যায়সঙ্গত বিচার কেবল আদালতের একক প্রচেষ্টায় সম্ভব নয়। তদন্তকারী সংস্থা, প্রসিকিউশন, ডিফেন্স, সাক্ষী এবং বিচার ব্যবস্থার সব অংশীজনের সম্মিলিত দায়িত্বশীল অংশগ্রহণের মাধ্যমেই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। আদালতের দায়িত্ব আবেগের ভিত্তিতে নয়, বরং আইন, সাক্ষ্য-প্রমাণ, আলামত, চিকিৎসা প্রতিবেদন এবং ন্যায়বিচারের চিরন্তন নীতিমালার আলোকে সত্য উদ্ঘাটন করা।

এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আদালত অত্যন্ত সতর্কতা, সংবেদনশীলতা ও বিচারিক নিরপেক্ষতার সঙ্গে মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে রায় প্রদান করেন।

© বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news