Template: 3
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
অনলাইন ডেস্ক | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
bijoybangla.news
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক

বাগান থেকে ৪০০ মণ বরই চুরি

অনলাইন ডেস্ক: 400 maunds of plums stolen

একটি মামলার আসামি হওয়ায় পুলিশের ভয়ে বরই বাগানের মালিকসহ শ্রমিকরা কয়েকদিন পালিয়ে ছিলেন। এই সুযোগে রাতের আঁধারে ওই বাগানের প্রায় ৪০০ মণ বরই ও মাল্টা চুরি করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। ঋণ করে বাগানটি করেছিলেন কৃষক সোলায়মান খান (৩২)। বরই ও মাল্টা চুরি হয়ে যাওয়ায় এখন ঋণ কীভাবে শোধ করবেন সেই চিন্তায় মাথায় হাত পড়েছে কৃষক সোলায়মানের।

বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) শরীয়তপুরের গোসাইরহাট থানায় বরই ও মাল্টা চুরির অভিযোগ করেছেন কৃষক সোলায়মান খান।

বাগান মালিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোসাইরহাটের নাগেরপাড়া ইউনিয়নের ছোট কালিনগর এলাকায় কৃষক সোলায়মান খান তিন একর জমি লিজ নিয়ে বরই ও মাল্টা বাগান করেছিলেন। সোলায়মান খান ওষুধ ও সার কোম্পানি থেকে বাকিতে ওষুধ ও সার এনেছিলেন। যা বরই ও মাল্টা বিক্রি করে পরিশোধ করার কথা ছিল। কিন্তু স্থানীয় ছোট একটি বিরোধের জেরে গত রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) বাগানের মালিক সোলায়মানসহ কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করা হয়। ওই মামলার আসামি হওয়ায় পুলিশের ভয়ে সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত পালাতক ছিলেন সোলায়মানসহ বাগানের কর্মচারীরা। এই সুযোগে রাতের আঁধারে কে বা কারা সোলায়মানের বাগান থেকে প্রায় ৪০০ মণ বরই ও মাল্টা চুরি করে নিয়ে যায়। রাতের আঁধারে বরই ও মাল্টা চুরি করতে গিয়ে দুর্বৃত্তরা কিছু গাছও ভেঙে ফেলে । সোলায়মানের বাগান থেকে চুরি হওয়া বরই ও মাল্টার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা। জমির লিজের টাকা, ওষুধ ও সারের টাকা কীভাবে পরিশোধ করবেন কৃষক সোলায়মান সেই চিন্তায় তার মাথায় হাত পড়েছে।

এনামুল খান নামে একজন বলেন, মামলার ভয়ে আমরা পালিয়ে ছিলাম। কে বা কারা আমাদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে বাগান থেকে বরই ও মাল্টা চুরি করে নিয়ে গেছে। থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশ সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করলে চোর শনাক্ত করতে পারবে। যারা আমার ভাইকে পথে বসিয়েছে, তাদের উপযুক্ত শাস্তি চাই আমি।

স্থানীয় বাসিন্দা ঝন্টু বলেন, সোলায়মান খানের বরই ও মাল্টা বাগানের পাশেই আমার বাড়ি। গত সোমবার রাতে আমি ঘরে শুয়ে ছিলাম, হঠাৎ শুনতে পাই বাগানে মানুষের শব্দ। আমি ডাক দিয়ে জানতে চাইলে বাগান থেকে উত্তর দিয়েছিল ‘আমরা’। রাত বেশি হওয়ায় ভয়ে আমি ঘর থেকে বের হইনি।

কৃষক সোলায়মান খানের বাগানে শ্রমিকের কাজ করেন লোকমান ও আবু বকর। তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, আমরা বাগানটিতে কাজ করতাম। কাজ করে যে পারিশ্রমিক পেতাম, তা দিয়েই আমাদের সংসার চলত। বাগানের সব বরই ও মাল্টা চুরি হয়ে গেছে। এখন আমাদের পারিশ্রমিক দেবেন কীভাবে সোলায়মান খান। আমাদের অনেক কষ্ট হবে।

বাগানের মালিক সোলায়মান খান বলেন, আমরা একটি মিথ্যা মামলার ভয়ে পালিয়ে ছিলাম। এই সুযোগে আমার বাগানের প্রায় ৪০০ মণ বরই ও মাল্টা চুরি হয়ে গেছে। অনেক গাছ ভেঙে ফেলা হয়েছে। চুরি যাওয়া বরই ও মাল্টার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা। বাগানের জন্য ওষুধ ও সার বাকিতে এনেছিলাম, জমি লিজ নিয়েছিলাম, শ্রমিকরা সারা বছর কাজ করেছে। আশা ছিল বরই ও মাল্টা বিক্রি করে লাভবান হবো। কিন্তু আমার সব শেষ হয়ে গেল। এখন আমি কীভাবে ঋণ শোধ করব, সেই চিন্তায় আছি। থানা পুলিশের কাছে আমি অভিযোগ করেছি, তারা তদন্ত করলে আসল চোর বেড়িয়ে আসবে।

বিষয়টি নিয়ে নাগেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক  বলেন, সোলায়মান খান অনেক কষ্ট করে বাগানটি গড়েছিল। বাগানের বরই ও মাল্টা চুরি যাওয়া দুঃখজনক। সোলায়মান আমাকে ঘটনাটি জানিয়েছিল। পুলিশের কাছে আমার দাবি, যারা এই কাজ করেছে, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হোক।

গোসাইরহাট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পুষ্পেন দেবনাথ বলেন, বরই ও মাল্টা চুরির ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

অচ / বি 

© বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news