Template: 1
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক | bijoybangla.news
QR
ই-পেপার / অনলাইন সংস্করণ
Friday , ১২ জুন ২০২৬ | ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন

বিশ্বকাপের দ্বিতীয় দিনে মুখোমুখি দ. কোরিয়া-চেকিয়া, রাতে শুরু কানাডার মিশন

অনলাইন ডেস্ক ১২ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিনের রেশ কাটতে না কাটতেই মাঠে নামছে দক্ষিণ কোরিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, কানাডা ও বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচে শুক্রবার দেখা যাবে দুই ভিন্ন প্রেক্ষাপটের লড়াই।


একদিকে এশিয়ার ধারাবাহিক প্রতিনিধি দক্ষিণ কোরিয়ার সামনে ইউরোপের চেক চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে সহ-আয়োজক কানাডা। দিনের প্রথম ম্যাচে গ্রুপ ‘এ’-তে মুখোমুখি হবে দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্র।


বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় মেক্সিকোর গুয়াদালাহারায় শুরু হবে ম্যাচটি। একই দিন গ্রুপ ‘বি’-তে কানাডা খেলবে বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার বিপক্ষে।

টরন্টোতে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায়।

দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বকাপে এশিয়ার অন্যতম নিয়মিত মুখ।


২০০২ সালে ঘরের মাঠে সেমি-ফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়েছিল তারা। এরপরও বিশ্বকাপ মঞ্চে ধারাবাহিকভাবে নিজেদের উপস্থিতি ধরে রেখেছে কোরিয়ানরা। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপেও শেষ ষোলোতে খেলেছিল তারা। এবার গ্রুপ ‘এ’-তে মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা ও চেকিয়ার সঙ্গে জায়গা পেয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। তাই প্রথম ম্যাচ থেকেই পয়েন্ট তোলার চাপ থাকবে তাদের ওপর।

চেক প্রজাতন্ত্রের জন্য এই ম্যাচটি আরেক ধরনের প্রত্যাবর্তনের গল্প। ২০০৬ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের মূল পর্বে ফিরেছে তারা। চেকোস্লোভাকিয়া হিসেবে বিশ্বকাপে সমৃদ্ধ ইতিহাস থাকলেও স্বাধীন চেক প্রজাতন্ত্র হিসেবে বিশ্বমঞ্চে তাদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। তাই দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি শুধু গ্রুপ পর্বের লড়াই নয়, দীর্ঘ বিরতির পর নিজেদের নতুন করে জানান দেওয়ার সুযোগও।


দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাসও খুব বড় নয়। সিনিয়র আন্তর্জাতিক ফুটবলে দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্র এর আগে তিনবার মুখোমুখি হয়েছে। সেখানে দুই দলেরই একটি করে জয় আছে, ড্র হয়েছে এক ম্যাচ। ১৯৯৮ সালে প্রথম দেখায় ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়েছিল। ২০০১ সালে দক্ষিণ কোরিয়াকে ৫-০ গোলে হারায় চেকরা। তবে ২০১৬ সালে সর্বশেষ দেখায় চেক প্রজাতন্ত্রকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া।


গুয়াদালাহারার ম্যাচটি তাই গ্রুপ ‘এ’-এর সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ। সহ-আয়োজক মেক্সিকোকে গ্রুপের শক্তিশালী দল ধরে নিলে দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের লড়াই হতে পারে শেষ ষোলোতে ওঠার পথে বড় নিয়ামক। হারলে পরের ম্যাচগুলোতে চাপ অনেক বেড়ে যাবে, আর জয়ী দল শুরুতেই নিজেদের অবস্থান শক্ত করে নিতে পারবে।


অন্যদিকে টরন্টোতে কানাডার ম্যাচটি ঘিরে আবেগের মাত্রা আরও বেশি। সহ-আয়োজক দেশ হিসেবে নিজেদের মাঠে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে কানাডা। ১৯৮৬ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলার পর দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে ২০২২ সালে কাতারে ফিরেছিল তারা। তবে এখনো বিশ্বকাপে প্রথম জয় পায়নি কানাডিয়ানরা। তাই বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচটি তাদের জন্য ইতিহাস বদলানোর সুযোগ।


কানাডার বর্তমান দলটি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি আত্মবিশ্বাসী। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর আমেরিকার ফুটবলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে তারা। ইউরোপের বিভিন্ন লিগে খেলা ফুটবলারদের নিয়ে দলটির প্রত্যাশাও বেড়েছে। ঘরের মাঠ, দর্শকের সমর্থন এবং সহ-আয়োজক হিসেবে বাড়তি অনুপ্রেরণা—সব মিলিয়ে কানাডার সামনে বড় সুযোগ।


তবে বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা সহজ প্রতিপক্ষ নয়। ২০১৪ বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নেওয়ার পর এবার আবার বিশ্বমঞ্চে ফিরেছে তারা। অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার এদিন জেকো এখনো দলটির বড় ভরসা। তরুণদের সঙ্গে তার অভিজ্ঞতা বসনিয়ার আক্রমণভাগকে ভারসাম্য দিতে পারে। বাছাইপর্ব পেরিয়ে আসার পথে দৃঢ়তা দেখানো দলটি কানাডার ঘরের মাঠের সুবিধাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চাইবে।


কানাডা ও বসনিয়ার মুখোমুখি লড়াইও খুব বেশি হয়নি। আগের সীমিত দেখায় বসনিয়াই কিছুটা এগিয়ে আছে। ফলে টরন্টোর ম্যাচে কানাডার সামনে থাকবে শুধু বিশ্বকাপে প্রথম জয় নয়, অতীতের হিসাব বদলানোর সুযোগও।


বিশ্বকাপের ৪৮ দলের নতুন ফরম্যাটে গ্রুপ পর্বে প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব বেড়েছে। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল সরাসরি নকআউট পর্বে যাবে, সঙ্গে সেরা আটটি তৃতীয় দলও জায়গা পাবে শেষ বত্রিশে। 

বিশ্বকাপের দ্বিতীয় দিনে মুখোমুখি দ. কোরিয়া-চেকিয়া, রাতে শুরু কানাডার মিশন__সংগৃহীত ছবি