
"আমি ছোটবেলা থেকে গ্রামে বড় হয়েছি। আমাদের আশেপাশেই আদিবাসীদের বসবাস, সেখানে আমার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। সাগরাম মাঝি আমার কাকা হতেন।" জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি আয়োজিত সংবর্ধনা ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই স্মৃতিচারণ করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, এমপি।
ভূমিমন্ত্রী ভূমিগ্রাসিদের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, "ভূমি জালিয়াতির দিন শেষ। আদিবাসীদের কোথাও কোনো ভূমি সংক্রান্ত জালিয়াতির তথ্য থাকলে আমাকে জানাবেন, আমি আপনাদের পাশে দাঁড়াবো।" তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আদিবাসীরা অত্যন্ত নিরীহ। তাদের এই সরলতার সুযোগ নিয়ে ভূমিদস্যুরা জাল দলিলের মাধ্যমে তাদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করে, যা অত্যন্ত কষ্টদায়ক।
রাজশাহী নগরীর সাগরপাড়ায় অবস্থিত 'সাগরাম মাঝি ছাত্রবাসের' জমি দখল প্রসঙ্গে মন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "সাগরাম মাঝির এক ইঞ্চি মাটিও কেউ আর দখল করতে পারবে না। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" তিনি আদিবাসী নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, "আপনারা আপনাদের সমস্যার কথা লিখিতভাবে জানান, আমি প্রতিটি বিষয় অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে দেখবো।"
জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি গণেশ মার্ডীর সভাপতিত্বে এবং রাজকুমার শাও-এর সঞ্চালনায় সভার শুরুতে লিখিত বক্তব্য পেশ করেন আদিবাসী নেতা অ্যাডভোকেট বাবুল রবিদাস। আদিবাসীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সম্পাদক বিমল চন্দ্র রাজোয়ার। সভায় বক্তারা আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমি সুরক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দাবি জানান।
অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে জাতীয় আদিবাসী পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রেসিডিয়াম সদস্য ক্রিস্টিনা বিশ্বাস, নাটোর জেলা সভাপতি নরেশ চন্দ্র ওরাও, দপ্তর সম্পাদক প্রদীপ লাকড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সভাপতি অনুকূল বর্মন, গোদাগাড়ী উপজেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ হেমব্রম, রাজশাহী জেলা সেক্রেটারি মুকুল বিশ্বাস এবং মহানগর সাধারণ সম্পাদক ছোটন সরদার।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে ভূমি রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি খিলিমন বাস্কে, দিঘোরী রাজা পরিষদের উপদেষ্টা চিত্তরঞ্জন সরদারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এসআইএল/বিবিএন