প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত, নৃত্য ও নাট্যকলাকে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগের প্রতিবাদে ১৮ জুন ঢাকায় ও ১৯ জুন দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।
রোববার (১৪ জুন) দুপুরে ঢাকার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের নিয়মিত মাসিক বৈঠকে থেকে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
বৈঠকে দলটির আমির মাওলানা মামুনুল হক সরকারের প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত, নৃত্য ও নাট্যকলাকে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, কোমলমতি শিশুদের শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিকতা, চরিত্র গঠন ও ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিবর্তে বিতর্কিত সাংস্কৃতিক উপাদান বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থি।
তিনি এ উদ্যোগ বাতিল করে প্রাথমিক পর্যায়ে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা জোরদারের দাবি জানান।
তিনি আরও বলেন, দেশ বর্তমানে গভীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ-জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব, দুর্নীতি, অর্থপাচার ও ব্যাংকিং খাতের অনিয়মে জনগণ দুর্ভোগে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জাতীয় স্বার্থ, ইসলামী মূল্যবোধ ও জনগণের অধিকার রক্ষায় আদর্শভিত্তিক রাজনীতি, জাতীয় ঐক্য ও গণ-আন্দোলনের বিকল্প নেই।
মামুনুল হক বলেন, জাতীয় সংসদে বাজেট ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সম্পর্কে সরকারের বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সাধারণ মানুষের মৌলিক সমস্যার কার্যকর সমাধানের সুস্পষ্ট রূপরেখা নেই। প্রায় দুই লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতির এ বাজেট ভবিষ্যতে জনগণের ওপর নতুন ঋণ ও করের বোঝা চাপাতে পারে।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণ-আন্দোলনে ইসলামী জনতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও প্রস্তাবিত বাজেটে ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের নিহত, আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। একইভাবে কওমি মাদরাসা, ধর্মীয় শিক্ষা, মসজিদভিত্তিক নৈতিক শিক্ষা কার্যক্রম ও আলেম সমাজের কল্যাণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগেরও প্রতিফলন দেখা যায়নি।
বৈঠক পরিচালনা করেন দলের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ। এছাড়া, বক্তব্য রাখেন দলের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, নায়েবে আমির মাওলানা কোরবান আলী কাসেমী, মাওলানা মাহবুবুল হক, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আব্দুল আজীজ, মুফতি শরাফত হোসাইন, মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজী ও মাওলানা শরীফ সাইদুর রহমান।