Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news
১৮ জুন ২০২৬
০৪:৫৫ অপরাহ্ন

পদ্মা সেতুর পিলারের পাশে মাটি কাটা ঝুঁকিপূর্ণ নয় : মন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক Sheikh Rabiul Alam

পদ্মা সেতুর পিলারের পাশ থেকে মাটি কাটার বিষয়টি নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া উদ্বেগকে ‘ভুল ধারণা’ বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

তিনি বলেছেন, সেতুর পিলারের পাশে যে মাটি সরানো হচ্ছে, সেটি মূল কাঠামোর অংশ নয়; বরং নির্মাণকাজের সময় সাময়িকভাবে ভরাট করা আর্টিফিশিয়াল মাটি, যা চুক্তি অনুযায়ী ঠিকাদারের আগেই অপসারণ করার কথা ছিল।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত বিএসআরএফ সংলাপ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

সংগঠনের সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল্লাহ বাদলের সঞ্চালনায় সংলাপটি অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতুর মতো বড় অবকাঠামো নির্মাণের সময় নদীর মাঝখানে কাজ পরিচালনার জন্য অনেক ক্ষেত্রে অস্থায়ীভাবে মাটি ভরাট, সাপোর্ট স্ট্রাকচার তৈরি এবং যন্ত্রপাতি চলাচলের ব্যবস্থা করতে হয়। নির্মাণ শেষে ঠিকাদারের এসব সাময়িক কাঠামো অপসারণ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা হয়নি।

তিনি বলেন, সেতু নির্মাণের সময় কিছু জায়গায় আর্টিফিশিয়াল ফিলিং করা হয়েছিল, যাতে যন্ত্রপাতি ও ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারে। প্রকল্প শেষ হওয়ার পর সেগুলো সরিয়ে ফেলার কথা ছিল।

কিন্তু সেটা সময়মতো হয়নি। এখন সেই মাটিই অপসারণ করা হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় ভরাট করা মাটি শক্ত ও স্বাভাবিক মাটির মতো হয়ে গেছে। ফলে এখন মাটি কাটার দৃশ্য দেখে অনেকের মনে হচ্ছে, সেতুর পিলারের পাশ থেকে মাটি সরানো হচ্ছে এবং এতে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বাস্তবে বিষয়টি তা নয়।

তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই একটা ভয় তৈরি হয়েছে-পিলারের পাশে মাটি কাটলে সেতু ঝুঁকিতে পড়বে কি না। কিন্তু প্রকৌশলগতভাবে এই মাটির সঙ্গে মূল পিলারের নিরাপত্তার সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।

শেখ রবিউল আলম জানান, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে সেতু বিভাগের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ওই মাটি অপসারণ করলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, নৌ চলাচল এবং পরিবেশগত ভারসাম্য আরও ভালো হবে।

তিনি বলেন, ফিজিবিলিটি স্টাডি অনুযায়ী ওই আর্টিফিশিয়াল মাটি সরিয়ে ফেলাই যুক্তিযুক্ত। এটি সরালে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হবে, নৌ চলাচলেও সুবিধা হবে।

এ সময় মন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন, মাটি অপসারণকে কেন্দ্র করে কোনো গোষ্ঠী সুবিধা নিচ্ছে বা মাটি বিক্রির সঙ্গে এর সম্পর্ক আছে-এমন অভিযোগের ভিত্তি তিনি পাননি।

তার ভাষায়, এটা মাটি বিক্রি বা কাউকে লাভবান করার প্রকল্প নয়। এটি মূল নির্মাণকাজেরই অসমাপ্ত অংশ। দেরিতে হওয়ায় এখন বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখা হচ্ছে।

পদ্মা সেতু ইস্যুতে গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বড় অবকাঠামোগত প্রকল্প নিয়ে সংবাদ পরিবেশনের আগে আরও গভীরভাবে প্রকৌশলগত বিষয়গুলো বোঝা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, কোনো সংবাদ প্রকাশের আগে বিষয়টি আরও গভীরভাবে যাচাই করা উচিত। কারণ অবকাঠামোগত অনেক বিষয় সাধারণ দৃষ্টিতে যেমন মনে হয়, প্রকৌশলগত বাস্তবতা অনেক সময় ভিন্ন।

প্রয়োজনে সাংবাদিকদের ঘটনাস্থল পরিদর্শনেরও আমন্ত্রণ জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, আপনাদের যদি আরও জানার প্রয়োজন হয়, আমরা ভিজিটের ব্যবস্থা করতে পারি। আপনারা সরেজমিনে গিয়ে দেখে আসতে পারেন। যদি প্রকল্পের বাইরে কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়, অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সময় সড়ক উন্নয়ন নিয়েও সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, ভাঙ্গা থেকে বরিশাল পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। এছাড়া ৩০ কিলোমিটার সড়ক দুই লেন থেকে সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। চার লেনে উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াও চলছে।

রাজধানীর বাস টার্মিনাল ও কাউন্টার ব্যবস্থাপনা নিয়েও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেন শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন সড়কের পাশে গড়ে ওঠা বাস কাউন্টারগুলো যানজটের অন্যতম কারণ। তবে বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া হঠাৎ করে কাউন্টার বন্ধ করলে যাত্রী দুর্ভোগ বাড়বে।

তিনি বলেন, আমরা কাউন্টারগুলো সরাতে চাই, কিন্তু যাত্রীদের সুবিধাও নিশ্চিত করতে হবে। ভালো ওয়েটিং রুম, টয়লেট, নিরাপত্তা ও উন্নত পরিবেশ ছাড়া মানুষ টার্মিনালে যেতে আগ্রহী হবে না।

তিনি আরও জানান, রাজধানীর কেন্দ্রীয় এলাকা থেকে ধাপে ধাপে বড় বাস টার্মিনাল সরিয়ে নেওয়া হবে। মহাখালী, সায়েদাবাদ ও ফুলবাড়িয়ার চাপ কমিয়ে নতুন ডিপো ও টার্মিনাল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া রাজধানীর বাস ব্যবস্থাপনাকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে রুটভিত্তিক কোম্পানি ব্যবস্থার কথাও জানান তিনি। একই রুটে বিচ্ছিন্ন মালিকানার পরিবর্তে নির্দিষ্ট কোম্পানির অধীনে একই মানের বাস পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে নির্ধারিত স্টপেজ, সিগন্যাল মেনে চলা এবং যাত্রীসেবার মান বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

© বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news