
কত হলো বয়স? ক্যালেন্ডার বলছে ৮৩। কিন্তু তিনি এখনো যখন হেসে কথা বলেন, সেটা বোঝার উপায় নেই। বয়সের সঙ্গে এমনই আপস করে নিয়েছেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী দিলারা জামান। আজ তার জন্মদিন। বিশেষ দিনে কেমন আছেন নন্দিত অভিনেত্রী? কিভাবে কাটছে সময়?
জানালেন, এবারের জন্মদিন তার জন্য একটু বেশিই আনন্দের। কারণ মেয়েকে কাছে পেয়েছেন। তার দুই মেয়ে, দুজনেই থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে। দিলারা জামান বলেন, ‘জন্মদিনে আমার বড় মেয়ে এসেছে, তাকে কাছে পেয়েছি, এটাই অনেক আনন্দের।’
জন্মদিনের আয়োজন নিয়ে জানতে চাওয়া হলে এই গুণী অভিনেত্রী মৃদু হেসে বললেন, ‘আমার মেয়েরা কী যে আয়োজন করবে জানি না; আমি চুপচাপ ঘরে বসে আছি। আত্মীয়-স্বজন ও কাছের মানুষেরা সবাই আসছে। শুভেচ্ছা জানাচ্ছে।’
বয়সের ফ্রেমে জীবনকে দেখার এক অনন্য অনুভূতি প্রকাশ পেল তার কণ্ঠে। ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘দিন যত যাচ্ছে, ততই তো প্রবীণ হচ্ছি। সবাই দোয়া করো, যেন সুস্থ থাকি।’
আশি পেরিয়ে এখনো প্রায়ই অভিনয় করেন দিলারা জামান। এটাই তার প্রাণ ও মনে মিশে আছে। অভিনয়ের টানেই পড়ে আছেন দেশে, সংস্কৃতির মানুষদের কাছে। তবে এ মাসে একটু বিরতি নিচ্ছেন। কারণ মেয়ের সঙ্গে সময় কাটাতে চান। ব্যস্ততা নিয়ে জানতে চাইলে দিলারা জামান বলেন, ‘মেয়ে এসেছে তো, তাই এই মাসে কাজ রাখিনি। শুধু একটা কাজ করে দিতে হবে ২২-২৩ তারিখে, ওরা জোর করে আবদার করেছে।’
দিলারা জামানের জন্ম ১৯৪৩ সালের ১৯ জুন তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ) বর্ধমান জেলায়। তার জন্মের কিছুদিন পরে পরিবার আসানসোলে যায়। আর ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর আসেন যশোরে। তবে তিনি পড়েছেন ঢাকার বাংলাবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও ইডেন কলেজে। স্কুলজীবনেই প্রথমবার মঞ্চ নাটকে অভিনয় করেন। পরে কলেজেও সে চর্চা অব্যাহত রাখেন।
কালজয়ী এ অভিনেত্রীর কর্মজীবন অবশ্য শুরু হয়েছিল শিক্ষকতা দিয়ে। অতঃপর আসেন মূলধারার অভিনয়ে। ১৯৬৬ সালে 'ত্রিধরা' দিয়ে টিভি নাটকে তার অভিষেক। প্রথম ধারাবাহিক 'সকাল সন্ধ্যা'। আর চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় ১৯৯৪ সালে হুমায়ূন আহমেদের 'আগুনের পরশমণি' দিয়ে। এরপর বহু চলচ্চিত্র আর কয়েক শতাধিক নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি।
অভিনয়ের জন্য একবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৩ সালে পেয়েছেন একুশে পদক।