রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় প্রশাসক জনাব মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন মহোদয়ের সঙ্গে জাপানের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। শনিবার (২০ জুন) নগর ভবনে রাসিক প্রশাসকের দপ্তরের সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত সাক্ষাৎকালে পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, তথ্য ও প্রযুক্তি এবং বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বাংলাদেশ সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে এবং প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধান অনুসরণ করে রাজশাহীর উন্নয়নে জাপানের সঙ্গে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন রাসিক প্রশাসক।
সাক্ষাৎকালে উভয়পক্ষ ভবিষ্যতে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সাক্ষাৎ শেষে জাপানের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলকে নগর ভবনের কল সেন্টার ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার ঘুরে দেখান রাসিক প্রশাসক।
জাপানের প্রতিনিধি দলে ছিলেন জাপান গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাওয়ামোতো ইয়াসুহিরো (Kawamoto Yasuhiro), জেনারেল ইনকরপোরেটেড অ্যাসোসিয়েশন হামিংবার্ড এর রিপ্রেজেন্টেটিভ ডিরেক্টর ইউতা শিগেমোরি (Yuta Shigemori), সান-সান গ্লোবাল এজেন্সির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিদেকি সাকাকিবারা ((Hideki Sakakibara), ওয়েস্ট ওকায়ামা মেডিকেল ক্লিনিক এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ও হ্যান্ডসন ল্যান্ড এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেইজি ইশিমোতো (Seiji Ishimoto)। সঙ্গে ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের প্রফেসর আবু সাঈদ।
আলোচনায় বিশেষভাবে রাজশাহী অঞ্চলের দক্ষ ও সম্ভাবনাময় জনশক্তি নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন জাপানের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা। তারা জানান, জাপানে বিভিন্ন খাতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং রাজশাহী থেকে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ কর্মী নিয়োগের বিষয়ে তারা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছেন। এছাড়া রাজশাহী সিটির সাথে জাপানের দুইটি সিটি সিস্টার সিটি সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা করেন।
রাসিক প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন মহোদয় জাপানের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান এবং বলেন, রাজশাহীর তরুণ জনগোষ্ঠী মেধাবী, পরিশ্রমী ও কর্মক্ষম। যথাযথ প্রশিক্ষণ ও সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে তারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
এ সময় রাসিক প্রশাসক আরও বলেন, রাজশাহী একটি কৃষিপ্রধান অঞ্চল, যেখানে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ আম উৎপাদিত হয়। রাজশাহীর আম দেশজুড়ে ব্যাপক সমাদৃত এবং আন্তর্জাতিক বাজারেও এর চাহিদা রয়েছে। রাজশাহীতে আধুনিক হিমাগার স্থাপন করা হলে আম দীর্ঘসময় সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। এতে কৃষক, আমচাষী ও ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন এবং রপ্তানির সুযোগও বৃদ্ধি পাবে। ফলে এ অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
তিনি আরও বলেন, জাপানের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের এই আগ্রহ রাজশাহীবাসীর জন্য অত্যন্ত সুসংবাদ। এর মাধ্যমে রাজশাহীর দক্ষ জনশক্তির জন্য আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের নতুন দ্বার উন্মোচিত হতে পারে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এ সময় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম, সচিব সোহেল রানা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আহমদ আল মঈন, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সালেহ মো.নূর-ঈ-সাঈদ সহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।