Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news
২১ জুন ২০২৬
০৩:০৩ অপরাহ্ন

ডায়াবেটিস কি লিভারের অসুখের ঝুঁকি বাড়ায়?

অনলাইন ডেস্ক Does diabetes increase the risk of liver disease

ডায়াবেটিস হলে সতর্ক থাকা জরুরি। কারণ এটি আরও অনেক অসুখ ডেকে আনতে পারে। অনেক সময় সেসব অসুখ নীরবে লুকিয়ে থাকে, যা সহসা ধরা পড়ে না। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত অনেকের লিভারের লুকানো ক্ষতিও থাকতে পারে, যা এই বিষয়ে আরও বেশি সচেতনতা এবং নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। 

গবেষকরা বলছেন, হৃৎপিণ্ড, কিডনি এবং চোখের সমস্যার পাশাপাশি লিভারের রোগকেও এখন ডায়াবেটিসের একটি প্রধান জটিলতা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। এই ফলাফলগুলো এসেছে ‘ডায়াফিব-লিভার স্টাডি’ থেকে, যা ‘দ্য ল্যানসেট রিজিওনাল হেলথ- সাউথইস্ট এশিয়া’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষকরা কী খুঁজে পেয়েছেন

এই গবেষণায় ভারতজুড়ে টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ৯,২০০ জনেরও বেশি প্রাপ্তবয়স্কের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষকরা লিভার ফাইব্রোসিসের উপস্থিতি পরীক্ষা করেছেন, যা এমন একটি অবস্থা যেখানে সুস্থ লিভারের টিস্যু ধীরে ধীরে ক্ষত টিস্যু দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়। ধীরে ধীরে গুরুতর লিভার ফাইব্রোসিস থেকে সিরোসিস, লিভার ফেইলিওর এবং এমনকি লিভার ক্যান্সারও হতে পারে।

ফলাফলগুলো উদ্বেগজনক ছিল। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রায় ২৬% এর মধ্যে চিকিৎসাগতভাবে উল্লেখযোগ্য লিভার ফাইব্রোসিস পাওয়া গেছে, যেখানে ১৪% এর মধ্যে অ্যাডভান্সড ফাইব্রোসিস ছিল। প্রায় ৫% এর মধ্যে লিভার রোগের কোনো সুস্পষ্ট লক্ষণ না থাকা সত্ত্বেও সম্ভাব্য সিরোসিসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ লক্ষণ দেখা গেছে।

গবেষকরা আরও আবিষ্কার করেছেন যে অংশগ্রহণকারীদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের লিভারে অতিরিক্ত চর্বি ছিল, যা এখন মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ (MASLD) নামে পরিচিত। তবে, সবচেয়ে আশ্চর্যজনক আবিষ্কারগুলোর মধ্যে একটি ছিল যে লিভার ফাইব্রোসিস শুধুমাত্র ফ্যাটি লিভারের রোগীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। এমনকী কিছু রোগীর লিভারে শনাক্তযোগ্য চর্বি না থাকলেও লিভারে উল্লেখযোগ্য ক্ষতচিহ্ন ছিল, যা থেকে বোঝা যায় যে লিভারের ক্ষতি বছরের পর বছর ধরে লুকানো থাকতে পারে।

টাইপ ২ ডায়াবেটিস এবং লিভার রোগের সংযোগ

বিশেষজ্ঞরা ব্যাখ্যা করেন যে, টাইপ ২ ডায়াবেটিস এবং লিভার রোগের মধ্যে একটি ঘনিষ্ঠ সংযোগ রয়েছে। রক্তে শর্করার উচ্চ মাত্রা, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স এবং স্থূলতা লিভারে চর্বি জমার কারণ হতে পারে। ধীরে ধীরে এটি প্রদাহ এবং ক্ষতচিহ্ন তৈরি করতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত ফাইব্রোসিস এবং সিরোসিসের দিকে নিয়ে যায়।

গবেষকরা ফাইব্রোস্ক্যান নামক একটি নন-ইনভেসিভ পরীক্ষা ব্যবহার করেছেন, যা লিভারের দৃঢ়তা পরিমাপ করে এবং বায়োপসি ছাড়াই ফাইব্রোসিস শনাক্ত করতে পারে। তারা বিশ্বাস করেন যে এই ধরনের স্ক্রিনিং পদ্ধতির ব্যাপক ব্যবহার গুরুতর লিভারের ক্ষতি হওয়ার আগেই রোগীদের শনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারে।

© বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news