
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার ঝাড়ঘড়িয়া গ্রামে জমিজমা ও পুকুরের মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া একটি মারপিট মামলাকে ঘিরে এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। মামলার বাদী হামলার অভিযোগ করলেও, মামলায় উল্লেখিত কয়েকজন সাক্ষী ঘটনার বিষয়ে অবগত নন বলে দাবি করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিজ দখলীয় পুকুরপাড়ে মাছ পাহারা দেওয়ার সময় প্রতিপক্ষের লোকজন রড, লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন বাদী মঞ্জুর হোসেন (খাকন)। এতে তার ডান হাতের কনুইয়ের নিচে গুরুতর জখম হয় এবং হাড় ভেঙে যায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তিনি চিকিৎসা গ্রহণ করেন। ঘটনার প্রায় দুই মাস পর, গত ৮ জুন বদলগাছী থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়।
সম্প্রতি সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট পুকুর ও জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শরিকদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। ঘটনাস্থলে থাকা স্থানীয় বাসিন্দা রেজওয়ান হোসেন দাবি করেন, অভিযোগে উল্লেখিত সময়ে তিনি কোনো মারামারির ঘটনা সম্পর্কে জানেন না।
মামলার ১ নম্বর সাক্ষী মোহান বাবু বলেন, আমাকে সাক্ষী করা হয়েছে, কিন্তু ঘটনাটি সম্পর্কে আমার কোনো জানা নেই। একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন মামলার ২ নম্বর সাক্ষী সাকী ইসলাম, ৩ নম্বর সাক্ষী পিন্টু হোসেন, ৪ নম্বর সাক্ষী আবু কালাম ও ৫ নম্বর সাক্ষী হায়দার আলী। তাদের দাবি, তারা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নন এবং এ বিষয়ে তেমন কোনো তথ্যও তাদের জানা নেই।
অন্যদিকে বাদী মঞ্জুর হোসেন তার অভিযোগে অটল থেকে বলেন, আমার ওপর হামলা হয়েছে এবং আমি আহত হয়েছি। গ্রামের কেউ সাক্ষ্য না দিলেও চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্র রয়েছে। তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বদলগাছী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রবিউল ইসলাম বলেন, “মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
বদলগাছী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রুহুল আমিন বলেন, তদন্তে প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ, চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্র ও অন্যান্য তথ্য যাচাই-বাছাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্তে যা পাওয়া যাবে, সে অনুযায়ী প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
স্থানীয়দের মতে, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সৃষ্টি হওয়া এ ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টির সুরাহা হলে এলাকায় চলমান আলোচনা ও বিতর্কেরও অবসান ঘটবে বলে তারা মনে করছেন।