রাজশাহী মহানগরীর কর্ণহার থানা এলাকার বহুল আলোচিত ও 'ক্লু-লেস' শিশু আদিব আহনাফ হত্যা মামলার রহস্য অবশেষে উদঘাটন করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। একটি অনৈতিক সম্পর্কের কথা ফাঁস করে দেওয়ার জের ধরে আক্রোশ ও ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে আদিবকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ১১ বছর বয়সী এক কিশোর।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১ মার্চ (২০২৬) রাতে তারাবির নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি শিশু আদিব আহনাফ। পরদিন ২ মার্চ সকালে কর্ণহার থানাধীন বিলধর্মপুর গ্রামের কৈচাপুকুর এলাকায় তার পিতার ঘাসক্ষেত থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের সময় মরদেহের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন এবং গলায় প্যান্টের বেল্ট পেঁচানো অবস্থায় পাওয়া যায়। এ ঘটনায় শুরুতে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কর্ণহার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আরএমপির পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনায় ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল মামলার ছায়া তদন্ত শুরু করে। উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. মনিরুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. হাফিজুর রহমান, বিপিএম-সেবা-এর তত্ত্বাবধানে মামলাটি পরবর্তীতে ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মো. এরশাদ হোসেনের নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য বেরিয়ে আসে।
*হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক কারণ ও স্বীকারোক্তি*
তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ২১ জুন অভিযানে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী ও জড়িত ওই ১৪ বছরের কিশোরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ২২ জুন তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে, সে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ওই কিশোর জানায়, এক মেয়ের সাথে তার শারীরিক সম্পর্কের কথা ভিকটিম শিশু আদিব জেনে যায় এবং তা ওই মেয়ের মাকে জানিয়ে দেয়। পরে মেয়ের মা বিষয়টি অভিযুক্ত কিশোরের মাকে জানালে, তার মা তাকে ব্যাপক মারধর করে। এই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই সে হত্যার পরিকল্পনা করে। রমজান মাসে আদিব তারাবির নামাজ পড়তে বের হলে, অভিযুক্ত কিশোর কৌশলে তাকে নির্জন জায়গায় নিয়ে যায়। সেখানে আদিবের মাথায় আঘাত করার পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ ফেলে পালিয়ে যায় সে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানকালে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোমরের বেল্টটি উদ্ধার করা হয়েছে।
আলোচিত এবং ক্লু-লেস এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও আসামিকে আইনের আওতায় আনার মাধ্যমে আরএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) অপরাধ দমনে তাদের পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও দৃঢ় অঙ্গীকারের বিষয়টি আবারও প্রমাণ করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।