Template: 3
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
অনলাইন ডেস্ক | ২৮ জুন ২০২৬
bijoybangla.news
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক

রেলওয়ের যন্ত্রাংশ সংগ্রহে জটিলতায় আগ্রহ হারাচ্ছে বিদেশি প্রতিষ্ঠান ॥ রেলওয়ের সেবা কার্যক্রমও বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা

আবুল কালাম আজাদ Railway services are also likely to be disrupted

বৈদেশিক প্রস্তুতকারকদের তালিকাভুক্তির কাজ দীর্ঘদিনেও শেষ না হওয়ায় বাংলাদেশ রেলওয়ের ডিজেল লোকোমোটিভের খুচরা যন্ত্রাংশ সংগ্রহে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে বিদেশি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে আগ্রহ হারাচ্ছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশ রেলওয়ে স্পেয়ার্স অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ সাপ্লায়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বারেসাএসএ) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা রোববার এ অভিযোগ করেন। তাদের দাবি, বৈদেশিক প্রস্তুতকারকদের তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া আগের সরকারের আমলে শুরু হলেও বিভিন্ন সময়ে সাত দফা দরপত্র খোলার তারিখ পেছানো হয়। পরে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হলেও যাচাই-বাছাই কার্যক্রম এখনো শেষ হয়নি।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সে সময় সংসদীয় কমিটির তৎকালীন প্রধান ও তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সহযোগীর হস্তক্ষেপে দরপত্রটি দীর্ঘদিন ঝুলে থাকে। ফলে তালিকাভুক্তির কার্যক্রমও পিছিয়ে যায়। বর্তমানে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম ধীরগতিতে চলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (পাহাড়তলী) দফতর থেকে ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভের খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহের জন্য প্রাক্‌-যোগ্যতা যাচাই ও তালিকাভুক্তির লক্ষ্যে একটি আহ্বানপত্র জারি করা হয়। ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট দরপত্রটি খোলা হয়। তালিকাভুক্তির জন্য মোট ৯৭টি প্রতিষ্ঠান আবেদনপত্র সংগ্রহ করে। এর মধ্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৫৪টি প্রতিষ্ঠান আবেদন জমা দেয়।

তবে আবেদন জমা নেওয়ার দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো তালিকাভুক্তির কাজ শেষ হয়নি। এতে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি বিদেশি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

তাদের ভাষ্য, তালিকাভুক্তির কার্যক্রম দীর্ঘায়িত হওয়ায় অনেক বিদেশি প্রস্তুতকারক বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণে আগ্রহ হারাচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে রেলওয়ের ডিজেল লোকোমোটিভের যন্ত্রাংশ সংগ্রহ কার্যক্রমে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সংগ্রহে বিলম্ব হলে রেলওয়ের সেবা কার্যক্রমও বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে যাত্রীসেবার স্বার্থে ডিজেল লোকোমোটিভের যন্ত্রাংশ-সংক্রান্ত তালিকাভুক্তির কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা এ বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রীর হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন।

সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ রেলওয়ে স্পেয়ার্স অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ সাপ্লায়ার্স অ্যাসোসিয়েশন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ট্রেড অর্গানাইজেশন (টিও) লাইসেন্সপ্রাপ্ত বাংলাদেশ রেলওয়ের একমাত্র ব্যবসায়িক সংগঠন। এটি এফবিসিসিআইয়ের জিআই ‘এ’ শ্রেণিভুক্ত অ্যাসোসিয়েশন।

সংগঠনটি রেলওয়ের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ১ হাজার ৫০০ নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত সরবরাহকারীর প্রতিনিধিত্ব করে। এসব সরবরাহকারী রেলওয়ের চাহিদা অনুযায়ী দেশি-বিদেশি যন্ত্রাংশ, ডিজেল ইঞ্জিন, কোচ ও ওয়াগনের বিভিন্ন সরঞ্জাম সরবরাহ করে থাকেন।

সংগঠনটির সভাপতি ফেরদৌস হুদা চৌধুরী বলেন, সংগঠনটি সরবরাহকারীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান এবং ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে। তিনি জানান, বিষয়টি তুলে ধরে শিগগিরই রেলপথ মন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হবে। এর অনুলিপি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক), প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছেও পাঠানো হবে।

© বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news