বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা ইকোসিস্টেমে অসামান্য অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে গত শনিবার (২৯ জুন) সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় সাইবার সিকিউরিটি সম্মেলন ‘ফিনিক্স সামিট ২০২৬’। ডিজিটাল রেজিলিয়েন্স শক্তিশালী করতে ও পরবর্তী প্রজন্মের সাইবার পেশাজীবীদের অনুপ্রাণিত করতে যারা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন, এই আয়োজনে মূলত তাদেরই সম্মানিত করা হয়েছে।
এই সামিটের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল সাইবার নিরাপত্তা ইকোসিস্টেমে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিশেষ সম্মাননা প্রদান। বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা অবকাঠামোর উন্নয়নে যুগান্তকারী নেতৃত্ব ও আজীবন উৎসর্গের জন্য ফাইবার অ্যাট হোমের চিফ ইনফরমেশন অফিসার (সিআইও) সুমন আহমেদ সাবিরকে লাইফটাইম অনার অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি, এই খাতে বিশেষ অবদান রাখায় ও তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পে নারীদের অনুপ্রাণিত করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করায় বিটিসিএলের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডোমেইন) জয়ীতা সেন রিম্পীকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে জনসাধারণের মধ্যে সাইবার সচেতনতা তৈরিতে চমৎকার দলগত উদ্যোগ ও নিষ্ঠার স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইবার সিকিউরিটি ক্লাবকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
গত ২৩-২৭ জুন ঢাকায় বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) অনুষ্ঠিত পাঁচ দিনব্যাপী সামিটের সমাপনী অনুষ্ঠানে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। পাওয়ার্ড বাই ব্র্যাক ব্যাংক ‘ক্লোজিং দ্য সাইবার গ্যাপ ইন ইমার্জিং ইকোনমিক্স’ প্রতিপাদ্যে, এই সামিটের আয়োজন করে দ্য টিম ফিনিক্স গ্রুপ (টিটিপিজি)। দেশের অন্যতম বড় এই তথ্যপ্রযুক্তি সম্মেলনে ১০ হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী, ৭৩টি অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ও ৩৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাব পার্টনার একত্রিত হয়।
এ বিষয়ে দ্য টিম ফিনিক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চিফ অব রিসার্চ এএসএম শামীম রেজা বলেন, “ফিনিক্স সামিট ঢাকা ২০২৬ কেবল কোনো সাধারণ কনফারেন্স নয়; বরং, এটি একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে। পাঁচ দিনব্যাপী এই আয়োজনে পলিসি মেকার, সাইবার সিকিউরিটি প্রফেশনাল, গবেষক, শিক্ষার্থী ও প্রযুক্তি পেশাজীবী সকলে একসাথে কাজ করার শপথ নিয়েছেন। প্রতিটি টেকনিক্যাল সেশন ও প্যানেল ডিসকাশনের মূল উদ্দেশ্যই ছিল সাইবার গ্যাপ দূর করার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়া। পাশাপাশি, নেপথ্যে থেকে নিরাপদ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন তাঁদের সম্মানিত করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত বোধ করছি।”