নরওয়ের কাছে হেরে আরও একবার বিশ্বকাপের নকআউটেই থামল ব্রাজিলের যাত্রা। তবে ১৯৯০ সালের পর প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই তারা বিদায় নিলো। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন চোট সারিয়ে খেলতে নামা নেইমার জুনিয়র। বিদায়ের আগে তিনি অনাকাঙ্ক্ষিত একটি রেকর্ডে নাম লিখিয়েছেন।
গতকাল (রোববার) দিবাগত রাতে নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে একের পর এক সুযোগ মিস করে হারের হতাশাই সঙ্গী হলো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। ২-১ গোলে হেরে সেলেসাওদের বিদায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন নেইমার। ইতিহাসের দ্বিতীয় ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার হিসেবে তিনি চারটি বিশ্বকাপ খেলে একবারও শিরোপা জিততে পারেননি।
এর আগে এই রেকর্ড গড়েছিলেন থিয়েগো সিলভা। এখন আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় না জানানো এই ডিফেন্ডার ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে খেলেছেন। অন্যদিকে, ৩৪ বছর বয়সী নেইমার খেলেছেন ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬ বিশ্বকাপে।
অন্যদিকে, ব্রাজিলের হয়ে চারটি বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ড আছে ফুটবল-রাজাখ্যাত পেলে, নিলটন সান্তোস, লেয়াও, কাস্তিলহো, কাফু, দালমা সান্তোস এবং রোনালদো নাজারিও’র। তাদের প্রত্যেকেই অন্তত একবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার নজির গড়েছেন।
অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডের পাশাপাশি পেলের পর একমাত্র ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার হিসেবে চারটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তি গড়েছেন নেইমার। গতকাল তিনি ৬৭ মিনিটে বদলি হয়ে মাঠে নেমে পেনাল্টিতে গোল করেন অতিরিক্ত সময়ে। এর আগেই অবশ্য ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল নরওয়ে। ফলে সেই গোল কেবলই ব্যবধান কমিয়েছে এবং রেফারির শেষ বাঁশি বাজান খানিক বাদেই।
২০২৬ বিশ্বকাপে নেইমার দুটি ম্যাচ খেলেছেন, স্কটল্যান্ড ও নরওয়ের বিপক্ষে সবমিলিয়ে তিনি মাঠে ছিলেন ৩৬ মিনিট। ব্রাজিলের বিদায়ের পর তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের ইঙ্গিত দিয়েছেন। যদি সত্যিই তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেন, তবে ব্রাজিলের জার্সিতে তার ক্যারিয়ার শেষ হবে ১৩০ ম্যাচে ৮০ গোল (সর্বোচ্চ) ও ৫৮ অ্যাসিস্ট নিয়ে। সিনিয়র জাতীয় দলের হয়ে নেইমারের একমাত্র শিরোপা ২০১৩ সালের ফিফা কনফেডারেন্স কাপ। এ ছাড়া ২০১৬ সালে তিনি ব্রাজিলের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে অলিম্পিক ফুটবলে স্বর্ণপদকও জিতেছিলেন।