Template: 3
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
অনলাইন ডেস্ক | ০৮ জুলাই ২০২৬
bijoybangla.news
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক

৯ ঘণ্টায় ১৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টি, জলাবদ্ধতায় কারণে দুর্ভোগে নগরবাসী

অনলাইন ডেস্ক City dwellers suffer due to waterlogging

ময়মনসিংহ নগরীতে টানা বৃষ্টিতে আবারও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত ১২টা ১০ মিনিট থেকে বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত ৯ ঘণ্টায় ১৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর, যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ। 

ভারী বৃষ্টিতে বুধবার সকাল থেকেই নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও আবাসিক এলাকায় পানি জমে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন জানান, নিম্নচাপের প্রভাবে এ বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ প্রভাব কেটে গেলে বৃষ্টির তীব্রতাও কমে আসবে।

বুধবার সকালে নগরের চরপাড়া, ক্যাডেট কলেজ এলাকা, মহিলা কলেজ, নতুন বাজার, কেওয়াটখালী, সানকিপাড়া, গোলকিবাড়ি, ধোপাখলার বাঁশবাড়ি কলোনি, পুরোহিতপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কের ওপর পানি জমে রয়েছে। কোথাও কোথাও ড্রেনের পানি উপচে রাস্তায় উঠে এসেছে। ক্যাডেট কলেজের সামনে ড্রেনে পানি প্রবেশ না করে উল্টো ড্রেন থেকেই পানি সড়কে ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। এতে রিকশা, অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করে। অনেক পথচারীকে হাঁটুপানি মাড়িয়ে গন্তব্যে যেতে হয়েছে।

বাঁশবাড়ি কলোনিতে অনেক ঘরে পানি ঢুকে পড়ে। বাসিন্দারা ঘর থেকে পানি সেচে বের করার চেষ্টা করেন। স্থানীয়রা জানান, বৃষ্টি হলেই এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। পানি নামতে সাধারণত একদিন সময় লাগে। এবার টানা বৃষ্টির কারণে পানি আটকে থাকায় অনেক পরিবারের রান্না-বান্নাও ব্যাহত হয়েছে।

শুধু সড়ক নয়, জলাবদ্ধতার কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন হাসপাতালের রোগী ও তাদের স্বজনরাও। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে পানি জমে যাওয়ায় রোগী আনা-নেওয়া এবং হাসপাতালের বিভিন্ন ভবনে যাতায়াতে ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। অনেক রোগী ও স্বজনকে হাঁটুপানি মাড়িয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।

চরপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টি হলেই আমাদের এলাকায় পানি জমে যায়। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি বাসার উঠান পানিতে তলিয়ে গেছে। ছোট ছোট বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে অনেক কষ্ট হয়েছে।

মহিলা কলেজ এলাকার নাজমা আক্তার বলেন, কলেজের প্রবেশপথে পানি জমে থাকায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। জুতা খুলে পানি পার হয়ে ভেতরে যেতে হয়।

ক্যাডেট কলেজ সড়কে অটোরিকশাচালক মো. রুবেল মিয়া বলেন, রাস্তায় পানি থাকায় গাড়ি চালাতে ঝুঁকি থাকে। কোথায় গর্ত আছে বোঝা যায় না। যাত্রীও কম পাওয়া যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করা এবং বিভিন্ন স্থানে ড্রেন দখল ও সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় পানি দ্রুত নামতে পারে না। ফলে প্রতি বর্ষাতেই নগরবাসীকে একই দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

তবে জলাবদ্ধতা নিরসনে মাঠে রয়েছে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন। বুধবার সকাল থেকেই প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ড্রেনেজ ব্যবস্থা পরিদর্শন করেন। কোথাও পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে শ্রমিক নিয়োগ করে প্রতিবন্ধকতা অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত কয়েকদিন ধরেই নগরের খাল ও ড্রেন পরিষ্কারের কাজ চলছিল বলে জানিয়েছে সিটি করপোরেশন।

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন বলেন, আজ আমার দায়িত্বের ১১০ দিন। অতিমাত্রায় বৃষ্টি হওয়ায় পানি আটকে গেছে। আমরা সারাদিন মাঠে থেকে পানি নামানোর চেষ্টা করছি। কোথায় পানি আটকে যায় এবং আগামী বর্ষায় যাতে এমন পরিস্থিতি না হয়, সে পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা হবে।

এদিকে ভারী বৃষ্টির কারণে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন এলাকায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। তবে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস জানায়, প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিজ নিজ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অন্যদিকে এইচএসসি পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী কয়েকদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।


© বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news