
রাষ্ট্র কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়, রাষ্ট্র হবে জনগণের- এমন একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। তাঁরা বলেছেন, জনগণের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। শুধু নির্দিষ্ট সময় পরপর নির্বাচন আয়োজন করলেই গণতন্ত্র পূর্ণতা পায় না; রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ ও মতামত নিশ্চিত করতে হবে।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে রাজশাহী নগরের এনজিও ফোরামে ‘কেমন রাষ্ট্র চাই বাংলাদেশে?’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক জনরাষ্ট্র মঞ্চ এ সভার আয়োজন করে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন রুলফার পরিচালক আফজাল হোসেন। ‘কেমন রাষ্ট্র চাই বাংলাদেশে?’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক জনরাষ্ট্র মঞ্চের মুখ্য সম্পাদক মাসুদ রানা। আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আবুল খায়ের উজির বাবলু। সভার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের রাজশাহী জেলার আহ্বায়ক এস এম হাসিনুর রহমান।
সভাপতির বক্তব্যে আফজাল হোসেন বলেন, স্বাধীনতার মূল চেতনা ছিল জনগণের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা। রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি পর্যায়ে জনগণের অংশগ্রহণ ও মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। বৈষম্য ও অন্যায় দূর করে মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জনগণের ক্ষমতায়ন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারলেই সত্যিকার অর্থে জনবান্ধব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
মূল প্রবন্ধে মাসুদ রানা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল চেতনা ছিল একটি স্বাধীন, গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। দীর্ঘ পথচলায় রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, সুশাসন, আইনের শাসন, অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকার নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণই রাষ্ট্রক্ষমতার মূল উৎস। তাই অবাধ রাজনৈতিক পরিবেশ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। জনগণের প্রত্যাশার উপযোগী রাষ্ট্র গড়ে তুলতে রাজনৈতিক সংস্কার, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠন ও কার্যকর সংস্কারের সুস্পষ্ট রূপরেখা প্রয়োজন।
আবুল খায়ের উজির বাবলু বলেন, রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হতে হবে আইনের শাসন। আইনের প্রয়োগে কোনো ধরনের বৈষম্য থাকা উচিত নয়। ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবার জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। কৃষক, শ্রমিক, নিম্ন ও মধ্যবিত্তসহ প্রান্তিক মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ন্যায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য দেন আশরাফুল হক তোতা, রাজা কুমার শাও, জাহাঙ্গীর আলম খান, অঞ্জনা সরকার, তন্ময় সান্যাল, বিমলচন্দ্র রাজোয়ার, গণেশ মার্ডি, আতিয়া তাসনিম, ড. আইনাল হক, আতিকুর রহমান ও আকতার হোসেন।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, উন্নয়নের সুফল সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে সমানভাবে পৌঁছে দিতে হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, খাদ্য, বাসস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তাকে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও বৈষম্য দূর করে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তোলার ওপরও তাঁরা গুরুত্ব দেন। বক্তারা
আরও বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নকে শুধু প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ না রেখে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। জনগণের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও জনবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।